বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে জাতীয় দলের অনুশীলন তখনো শুরু হয়নি। খেলোয়াড়দের নিয়ে মাইক্রোবাস আসতে শুরু করল মাত্র। কোচ আসলেন তার আলাদা গাড়িতে। সবার সঙ্গে নতুন করে পরিচিতি পর্বটাও চলল কোচ জেমি ডের। এই ব্রিটিশ সবসময় হাসিমুখেই থাকেন। গত ১৪ মাসে একটিবারও রাগ হতে দেখা যায়নি। খেলোয়াড়রা ভালো হারুক জিতুক। খেলোয়াড়দের চাঙ্গা রাখতে যা কিছু করার দরকার সবই করেন জেমি ডে। পারফরম্যান্স আদায় করতে কৌশল হতে পারে। তবে খুব বাস্তববাদী চার সন্তানের এই মানুষটি। খোঁচা খোঁচা দাঁড়িতে আঙুলের ঘষা লাগিয়ে কথা বলেন। বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ই গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নিয়ে বাস্তবতার বাইরে যেতে রাজি না জেমি ডে। হাত উঁচু করে দেখালেন কাতার এত ওপরে। ভারত, ওমান এবং আফগানিস্তানের নিচে বাংলাদেশ। দেশের ফুটবল দর্শকদের উদ্দেশ্য করে জেমি ডে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে বলছিলেন আমাদেরকে বুঝতে হবে গ্রুপে কতটুকু শক্তিশালী দল রয়েছে। ওখানে বাংলাদেশের অবস্থান কতোটুকু। সহজ সরল ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন সব দিক হতে আমাদের (বাংলাদেশ) শক্তি কম এবং আমরা পিছিয়ে আছি। তাহলে লক্ষ্যটা কি হবে বাংলাদেশের? জেমি বললেন,‘আমাদেরকে ভালো খেলতে হবে। এত সব শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ভালো খেলাটাই আমাদের প্রথম কাজ।’
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দুই ঘন্টার অনুশীলন শেষে খেলোয়াড়রা হোটেলে ফিরে যাওয়ার মাইক্রোবাসের সিটে বসে গেছেন। জেমি একা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন। কপাল কুঁচকে, চোখ এদিক-ওদিক ঘুরিয়ে জেমি বলছিলেন,‘আমরা আপসেট ঘটাতে চাই। দুই একটা আপসেট করতে পারলেও খুশি।’ কোন্ দলের বিপক্ষে আপসেট হতে পারে ? জবাবে জেমি ডে বললেন,‘তোমরা মনে কর না আফগানিস্তান খুব সহজ হবে। কারণ আফগানিস্তানের ফুটবলাররা ইউরোপে খেলে থাকে। কাউকে আমরা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না, তবে আপসেট করতে পারলে খুশি হবো।’
ফিফার র্যাংকিংয়ে কাতার (৬২), ওমান (৮৭), ভারত (১০৩), আফগানিস্তান (১৪৯), বাংলাদেশের (১৮২) চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। কাগজে-কলমের পার্থক্য অনেক বেশি। সাদা চোখে বাংলাদেশের কোনো ম্যাচই জেতার কথা না। তারপরও র্যাংকিং দিয়েই পূর্ণাঙ্গ বিচার হয় না। মাঠের লড়াইয়ে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। বাংলাদেশ কিছু একটা ঘটাতে চায়। জেমি যে হয়তো সেই ইঙ্গিতটাই দিয়ে বলেছেন-আপসেট ঘটাতে চান। কোচের কথা উড়িয়ে দেন না দলের অধিনায়ক জামাল ভুইয়া। কারণ হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে চারটি দলের বিপক্ষে ৮ ম্যাচ হবে। প্রতিপক্ষের ঘরে যেমন লড়াই হবে তেমনি আমাদের ঘরের মাঠেও লড়াই হবে।’
প্রাথমিক তালিকায় ডাক পাওয়া ২৬ ফুটবলারের মধ্যে ১৯ জন ছিলেন। বাকি ৭ জন, আবাহনীর অধিনায়ক সোহেল, জীবন, সোহেল রানা, টুটুল হোসেন বাদশা, মামুনুল ইসলাম, সাদউদ্দিন এবং জুয়েল রানা উত্তর কোরিয়ায় আগামী ২৮ আগস্ট এএফসি কাপের ফিরতি ম্যাচ শেষে অনুশীলনে যোগ দেবেন।
তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রথম খেলা আফগানিস্তানের বিপক্ষে। খেলা হবে টার্ফের মাঠে। অনুশীলনও করার কথা ছিল কমলাপুর স্টেডিয়ামের টার্ফে। কিন্তু গতকাল সকালে কোচ জেমি বললেন,‘না না আমরা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ঘাসের মাঠেই অনুশীলন করব।’ কিন্তু কেন জানতে চাইলে কোচ বলেন,‘এখানেই করব। কোনো সমস্যা নেই, যদি বৃষ্টি না হয়। আমরা তাজিকিস্তানে টার্ফের মাঠে অনুশীলন করব। ওখানে ম্যাচও হবে টার্ফের মাঠে।’ কোচ জানালেন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুশীলন করলেও ২৭ আগস্ট বিকেএসপি যাবে ফুটবল দল। সারাদিন সেখানেই থাকতে হবে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ট্রেনিংয়ের জন্য।
