এবার নিয়ে দ্বিতীয়বার তাস খেলার বিশ্বকাপে লড়াই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জুনে এশিয়ায় আঞ্চলিক বাছাইয়ে ভারত, পাকিস্তানের মতো দেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ। ২৪ দেশ নিয়ে চীনের শহর উহানে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ব্রিজ। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের লক্ষ্য ১৬ নম্বরে থাকা। আর ব্রিজ ফেডারেশনের সভাপতি মুশফিকুর রহমান মোহন খেলোয়াড়দের জানিয়ে দিয়েছেন ১৮ নম্বরে থাকতে পারলেও তিনি ৫ লাখ টাকা বোনাস দেবেন। ব্রিজ খেলোয়াড় রাশেদুল হাসান, কামরুজ্জামান, মনিরুল ইসলামরা দেশের পতাকা মাথায় রেখে সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করবেন জানিয়েছেন। তবে লড়াই করাটা খুব কঠিন। তারা জানালেন ২৪ দেশের মধ্যে একমাত্র মরক্কো নতুন দেশ। বাদবাকি যারা আছে তারা প্রায় সবাই পেশাদার খেলোয়াড়। রাশেদুল বললেন, ‘মরক্কো প্রথমবার খেলছে আর আমরা ফ্রান্স বিশ্বকাপে খেলেছি। মরক্কোর চেয়ে অভিজ্ঞতায় আমরা এগিয়ে।’ মনিরুল ইসলাম বললেন, ‘বর্তমান চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি দল। গতবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ান দলটিকে আমরা হারিয়েছিলাম প্রথম রাউন্ডে। ওটা স্বপ্নের চেয়েও বেশি। সেই দলটাই চ্যাম্পিয়ন এবং ফ্রান্স রানার্সআপ হয়। আসলে প্রথম রাউন্ড হতে মিডরাউন্ড পর্যন্ত ভালো খেলি। কিন্তু টানা তেরো চৌদ্দ দিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত খেলা কঠিন হয়ে যায়। এটা টেম্পারমেন্টের ওপর নির্ভর করে।’
টেম্পারমেন্ট নির্ভর করে অনুশীলনের ওপর। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা নিজ নিজ পেশায় ব্যস্ত। এরই ফাঁকে অনুশীলন করলেও মূলত তাদের সবচেয়ে বড়ো সমস্যা অনুশীলনের নির্দিষ্ট স্থান নেই। ব্রিজ ফেডারেশন সভাপতি মুশফিকুর রহমান মোহনের দাবি ৬-৭ হাজার স্কয়ার ফুটের স্থান বরাদ্দ দেওয়া হলে নিবিড় অনুশীলন করা সম্ভব এবং এশিয়ান গেমস হতে পদক এনে দেওয়া যাবে। খেলোয়াড়রা সুর মিলিয়ে বললেন আমরা যেভাবে অনুশীলন করি এভাবে হয় না। চ্যালেঞ্জ দিয়ে সভাপতি বলেন, ‘এশিয়ান গেমস হতে পদক না আনতে পারলে দায়িত্ব ছেড়ে দেব।’ তিনি বলেন, ‘ভারতে অন্তত ১ হাজার খেলোয়াড় আছে যার ক্লাস সেভেনের নিচে পড়ে। ৫০০-৬০০ পেশাদার খেলোয়াড় রয়েছে যারা ব্রিজ খেলে জীবন চালায়। তাস মানেই জুয়া নয়। এটা বুদ্ধির খেলা। মেধা বিকাশের খেলা। দেখতে হবে খেলাটাকে আপনি সঠিক প্রয়োগ করছেন না অপপ্রয়োগ করছেন।’
ব্রিজ খেলতে যাওয়া বিশ্বকাপগামী বাংলাদেশ দলের মিডিয়া পার্টনার দৈনিক ইত্তেফাক।
