রাজশাহীর বাঘা উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলের কৃষকরা এ বছর পেঁয়াজের বাজারমূল্য নিয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন। তারা বলছেন, গত বছর বন্যার পানি নামতে দেরি হওয়ায় পেঁয়াজ চাষাবাদ নিয়ে অনেকেই আতঙ্কে ছিল। ইচ্ছে থাকার পরেও খুব বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে পারেনি অনেকে। কিন্তু তারপরও এবার ব্যাপকহারে পেঁয়াজ চাষাবাদ হলেও বাজারমূল্যে ধস নামায় চরম হতাশার মধ্যে পড়েছেন পেঁয়াজ চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বাঘা উপজেলায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় দুই হাজার হেক্টর। যা অতিক্রম করে চাষাবাদ হয়েছে আড়াই হাজার হেক্টর। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে। সে মোতাবেক চরবাসীদের অনেকেই আগাম পেঁয়াজের চাষ করেছেন। তাদের দেয়া তথ্যমতে, বাঘার চরাঞ্চলের পেঁয়াজ এর গুণগতমান ভালো। এ কারণে এখান থেকে প্রতি শীত মৌসুমে বাস এবং ট্রাকযোগে পেঁয়াজ চালন দেয়া হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
সরেজমিনে রবিবার সকালে বাঘা উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, আগা পেঁয়াজ তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ওই এলাকার কৃষকরা। পুরুষ শ্রমিকরা জমি থেকে পেঁয়াজ তুলে দেয়ার পর তার আগাছা পরিষ্কার করছেন নারী শ্রমিকরা। এ সময় জমির মালিক সাইফুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, গত বছর পেঁয়াজে লাভবান হওয়ার কারণে এবার আগাম ৫ বিঘা পেঁয়াজ চাষ করেছিলাম। কিন্তু বাজারমূল্যের যে অবস্থা খরচ বাদে কিছুই থাকবে না।
অপর দুজন কৃষক বাবলু দেওয়ান ও আঁকছেন শিকদার জানান, তারা গত বছর ইচ্ছে থাকার পরেও বন্যার পানি নামতে দেরি হওয়ায় উপযুক্ত জমি না পাওয়ায় খুব বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে পারেননি। এ দিক থেকে এবার চরাঞ্চলের অসংখ্য কৃষক অনুকূল আবহাওয়া ও উপযুক্ত মাটি পেয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। কিন্তু হঠাত্ করে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় তারা চরম হতাশার মধ্যে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ ভারত থেকে (এলসি) পেঁয়াজ আসায় এবার দেশি পেঁয়াজের দাম পড়ে গেছে।
চরাঞ্চলের চকরাজাপুর ইউনিয়নের পেঁয়াজ চাষি শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানান, তিনি গত বছর অত্র মৌসুমে ৬ বিঘা পেঁয়াজ চাষ করে বাজার মূল্য পেয়েছিলেন ২৫ টাকা কেজি। কিন্তু এবার জমি থেকে ১৩-১৪ টাকার উপরে এখন পর্যন্ত পেঁয়াজ বিক্রি হয়নি। এর ফলে তিনি উত্পাদন খরচ বাদ দিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখ দেখবেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাবিনা বেগম জানান, এ বছর দেশের সর্বত্রই কম-বেশি পেঁয়াজ এর আবাদ হওয়ায় উত্পাদন বেড়ে গেছে। ফলে বাজারমূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। তার মতে, বাঘার সমতল এলাকায় যে পরিমাণ পেঁয়াজ উত্পন্ন হয় তার চেয়ে অনেক বেশি উত্পন্ন হয় উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে। তিনি পেঁয়াজ চাষাবাদের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলে জানান।
