পুলিশ এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় স্কুলের দুই বান্ধবীকে নিয়ে নিজের বাল্য বিয়ে নিজেই আটকে দিল বাসুগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মনিকা (১১)। গত শুক্রবার রাত ৮টায় তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল আমতলী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা কর্মী শামীমের (১৫) সাথে।
পুলিশ সূত্র জানায়, নিজের বিয়ের আয়োজন দেখে মনিকা হতবাক হয়ে যায়। বিয়ে বন্ধের জন্য স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কনিকাকে নিয়ে সে প্রথমে আমতলী আদালতে যায়। আদালত বন্ধ থাকায় সোজা চলে যায় থানায়। থানায় কথা বলে এসআই নাসরিনের সাথে। সব শুনে তাত্ক্ষণিক এসআই নাসরিন পুলিশ, মনিকা ও তার দুই বন্ধুকে নিয়ে তাদের আমতলীর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসায় উপস্থিত হন। এসময় পুলিশ উপজেলা প্রশাসনকে খবর দিলে আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কমলেশ চন্দ্র মজুমদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) কমলেশ চন্দ্র মজুমদার মনিকার মাকে ডাকেন এবং বাল্য বিয়ের কুফল সম্পর্কে বুঝিয়ে বলেন। বাল্য বিয়ের কুফল বুঝতে পেরে মনিকার মা তার মেয়েকে আর বাল্য বিয়ে দিবেন না বলে মুচলেকা দেন।
মনিকার মা শাহনেওয়াজ বেগম মেয়েকে বিয়ে না দিয়ে লেখাপড়া করানোর অঙ্গীকার করেন । মনিকাও লেখাপড়া করে পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। সাহসী উদ্যোগ নিয়ে নিজের বাল্যবিয়ে বন্ধ করায় মনিকা এখন আমতলীর আলোচনার কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমতলী থানার এসআই নাসরিন বলেন, মেয়েটি অনেক বুদ্ধিমতী। তার বিয়ের আয়োজনের কথা টের পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় সে তার দুই সহপাঠীকে সাথে নিয়ে থানায় আসে। আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কমলেশ চন্দ্র মজুমদার বলেন, মনিকা অত্যন্ত বুদ্ধিমতী। তার অনেক প্রসংশা করতে হয়। ছোটো মেয়ে থানায় উপস্থিত হয়ে নিজের বাল্য বিয়ে নিজেই বন্ধ করেছে। এজন্য মনিকাকে অনেক ধন্যবাদ দেই। সবাই যদি এরকম হতো তাহলে সমাজে আর বাল্য বিয়ে থাকত না।
