চাকরি ফিরে পেতে চান মুক্তিযোদ্ধা রউফ

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০০

গোপালগঞ্জের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ শেখ চাকরি ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ছয় ছেলে-মেয়ে নিয়ে নিদারুণ দুঃখ-কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ছেলে-মেয়েদের মুখে তুলে দিতে পারছেন না দু’মুঠো ভাত। চাকরি হারিয়ে ছেলে-মেয়েদের বড় করতে ও নিজের চিকিত্সার জন্য জায়গা-জমি খুইয়েছেন। তিনি জাতীয় প্যারেট সদস্য। প্যারেট পোশাক পরে তিনি ১৬ ডিসেম্বরে প্যারেটে অংশ নেবেন। কিন্তু এ পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে থাকে তার চাপা দুঃখ বেদনা।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বনগ্রামের মৃত মোঃ মকবুল শেখের ছেলে আব্দুর রউফ শেখ ১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান পুলিশের সিপাই পদে চাকরি শুরু করেন। তিনি রাজারবাগ পুলিশ হেড কোয়ার্টারের এ কোম্পানিতে কর্মরত চিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পাকবাহিনী হামলা করে। এ সময় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে পাকবাহিনীর যুদ্ধ হয়। যুদ্ধ করতে গিয়ে আব্দুর রউফ গুলিবিদ্ধ হন। তিনি গোপালগঞ্জে ফিরে এসে শহরের ডা. রমানাথ বিশ্বাসের কাছ থেকে চিকিত্সা নেন। সুস্থ হয়ে নিজগ্রাম সদর উপজেলার বনগ্রামের যুবকদের নিয়ে সংগঠিত করে ট্রেনিং দিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করেন। পাকবাহিনী বিষয়টি টের পেলে আব্দুর রউফ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে ঢাকা চলে যান। পরে কাদেরিয়া বাহিনীতে যোগ দিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পুলিশবাহিনীতে যোগ দেন। জিয়াউর রহমানের সময়ে তিনি চাকরিচ্যুত হন। তাকে কোনো পেনশন প্রদান করা হয়নি। এরপর থেকে প্রধানমন্ত্রীসহ পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও তিনি চাকরি ফিরে পাননি। তিনি চাকরি ফিরে পেতে এখনো ধর্ণা দিয়ে চলেছেন। চাকরি হারানোর ফলে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করাতে পারেননি। এক বেলা আধ বেলা খেয়ে না খেয়ে দরিদ্রতার মধ্যে তার দিন কাটছে।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ শেখ বলেন, যুদ্ধ করতে গিয়ে আমি গুলিবিদ্ধ হই। চিকিত্সার পেছনে আমার সব ব্যয় হয়েছে। দেশ স্বাধীন হলে পুলিশে যোগ দেই। প্রতিবছর ১৬ ডিসেম্বর প্যারেড গ্রাউন্ডে প্যারেডে অংশ নেই। জিয়াউর রহমানের আমলে বদলির জন্য আবেদন করি। বাড়ি গোপালগঞ্জ এ অপরাধে আমাকে চাকরিচ্যুত করে গলা ধাক্কা দিয়ে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে ধর্ণা দিয়েও চাকরি ফিরে পাইনি। মানবতার মাতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে চাকরিতে বহাল করে সমস্ত সুযোগ সুবিধা প্রদান করবেন বলে আশা করছি। চাকরির সুযোগ সুবিধা পেলে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোভাবে বাঁচতে পারব।