রোহিঙ্গা সংকট

মিয়ানমারকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান বাংলাদেশের

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫৫

রোহিঙ্গা প্রত্যবাসনে বাংলাদেশের অসহযোগিতার যে অভিযোগ মিয়ানমার তুলছে তা ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং অগ্রহণযোগ্য। এই সংকটের জন্য মিয়ানমার সম্পূর্ণরূপে দায়ী। তাই রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে সকল বাধ্যবাধকতা ও প্র্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেই মিয়ানমারের মনোযোগ দেওয়া উচিত। গতকাল রবিবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে মিয়ানমারকে এই আহবান জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফেরার সহায়ক পরিবেশ তৈরি এবং প্রত্যাবাসন ও পুনঃএকত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় তাদের নজরদারির বিষয়টি মিয়ানমার সরকারের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রত্যাবাসন শুরুতে মিয়ানমারের প্রস্তুতির দাবি অনুযায়ী বাংলাদেশ ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসন শুরুতে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়। ৩৪৫০ জন রোহিঙ্গার স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিল। তালিকার থাকা রোহিঙ্গাদের ৩৩৯টি পরিবারের সাক্ষাতকারও নেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কোনো রোহিঙ্গা পরিবার ফিরতে রাজি হয়নি। রোহিঙ্গাদের মতে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সার্বিক পরিবেশ ফেরার জন্য অনুকূল নয়। বেশিরভাগ পরিবারই নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অনেকেই ন্যায়বিচার, নাগরিকত্ব, চলাফেরার স্বাধীনতা ও ভূমি ব্যবহারের অধিকারের অভাবের কথা উল্লেখ করেছে।

দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা অনুযায়ী বাস্তুচ্যুত মানুষদের স্বেচ্চা প্রত্যাবাসনে উত্সাহিত করার দায়িত্ব মিয়ানমারের। রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ তৈরির দায়িত্বও মিয়ানমারের। মিয়ানমার সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বাধ্যবাধকতা পূরণের ব্যর্থতা- রোহিঙ্গাদের ফিরে না যাওয়ার কারণ। রোহিঙ্গাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানে মিয়ানমার সরকারের রাজনৈতিক সদ্বিচ্ছার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। মিয়ানমার সরকারের ভিত্তিহীন অভিযোগ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কোনো ভূমিকা রাখবে না। ফেরত যেতে ইচ্ছুক এমন কাউকে যেতে বাংলাদেশ কখনো বাধা দেয়নি।