নগরীর ব্যস্ততম জংশনগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছে পথচারীরা। নেই জেব্রা ক্রসিং। ফলে নিত্য হতাহতের ঘটনা ঘটছে। নগরীতে যে তিনটি স্থানে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে ব্যাপক সফলতা মিলছে। এসব স্থানে পথচারীরা নিরাপদে রাস্তা পার হতে ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করছে। তাই নগরীর ব্যস্ততম অন্যান্য স্থানে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি উঠেছে। ট্রাফিক বিভাগ নগরীর ৯টি স্থানে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে সিডিএকে চিঠি দিয়েছে।
নগরীর কয়েকটি ব্যস্ততম জংশনে পথচারীদের চলাচল বেড়েছে। বিশেষ করে, বহদ্দারহাট, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা মোড়, ইস্পাহানী মোড়, টাইগার পাস, নিউমার্কেট মোড়, আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়, বন্দর-কাস্টমস মোড়, দেওয়ানহাট মোড়, কর্ণফুলী সেতুর উত্তর পাশে মোড় উল্লেখযোগ্য। এসব জংশনের প্রয়োজনে দিনে-রাতে মানুষের পদচারণা বেড়েই চলছে। জংশনগুলোতে বাণিজ্যিক, চাকরি, শিক্ষাসহ নানা কারণে ব্যস্ততা বেড়েই চলেছে। যাত্রী ওঠানামার কারণে মানুষের ব্যাপক চলাচল থাকে জংশনগুলোতে। এসব স্থানে চতুর্মুখী যানবাহন চলাচলের কারণে পথচারীদের রাস্তা পারাপারে ঝুঁকি বেড়েছে। ঘটছে ছোটো-বড়ো দুর্ঘটনা। এতে হতাহত হচ্ছে পথচারীরা। যানবাহনের চতুর্মুখী চাপে কোন দিক থেকে গাড়ি ছুটে আসছে পথচারীদের বুঝে ওঠা সম্ভব হয় না। আগে ব্যস্ততম সড়কগুলোতে পথচারী পারাপারের জন্য জেব্রা ক্রসিং ছিল। এখন অধিকাংশ স্থানে এসব জেব্রা ক্রসিং মুছে গেছে। বিভিন্ন যানবাহনে গতি রোধে স্পিডব্রেকার থাকলেও চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রী পরিবহনে গণপরিবহনের গাড়িগুলো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়।
কর্ণফুলী সেতুর উত্তর পাশে রাস্তা পারাপারের সময় প্রায় সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারীরা। গোল চত্বরটি সেতুর একেবারে কাছে। ফলে সেতু থেকে গাড়ি দ্রুত নেমে আসার সময় পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এখানে রাস্তা পার হওয়ার সময় অনেক পথচারী মারা গেছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামমুখী অসংখ্য মানুষ দিনরাত এখানে ভিড় জমায়। গোল চত্বরের চারপাশে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। ফলে গোল চত্বরে গাড়ি ঘোরানোর সময় অথবা সেতুতে গাড়ি ওঠানামার সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারীরা। তাই ব্যস্ততম এই স্থানে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি উঠেছে। এছাড়া জিইসি, ইস্পাহানী, আগ্রাবাদ, বাদামতলী ও নিউমার্কেট মোড় মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে পথচারীরা রাস্তা পারাপার করছে।
জানতে চাইলে সিএমপির উপকমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) হারুন-অর-রশিদ হাযারী ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা ৯টি স্থানে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সিডিএর কাছে চিঠি দিয়েছি। এসব স্থানে দৈনিক কী পরিমাণ লোক চলাচল করে এবং যানবাহনের গতিসহ সমস্ত তথ্য চিঠিতে তুলে ধরেছি। সিডিএ চেয়ারম্যান সিটি মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করে উদ্যোগ নেবেন বলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করি, আমাদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হবে।’
নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম জংশন মুরাদপুর মোড়ে সম্প্রতি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করে পথচারীদের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, ফুটওভারব্রিজ চালুর কারণে মুরাদপুরে ব্যাপক সফলতা পাওয়া যাচ্ছে। এখানে ফ্লাইওভারের নিচে রাস্তার মাঝখানে লোহার গ্রিল দিয়ে রাস্তা পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে পথচারীদের রাস্তা পারাপারের সুযোগ না থাকায় ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করছে। প্রতিদিন হাজারো পথচারীর পদচারণায় ফুটওভারব্রিজে ভিড় থাকে। এখানে ট্রাফিক পুলিশকে ব্যস্ত থাকতে হয় না। তাই নগরীর অন্যান্য জংশনগুলোতে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
নগরীর দামপাড়ায় বাওয়া স্কুলের সামনে ছোটো আকৃতির একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সেটি ওয়াসার মোড়ে নির্মাণ করলে ব্যাপক সফলতা পাওয়া যেত বলে স্থানীয়রা মনে করেন। এখন এটি বাওয়া স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সীমিতভাবে ব্যবহার করে। কিন্তু ওয়াসার মোড়ে পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করছে। এছাড়া ইপিজেড মোড়ে ফুটওভারব্রিজ রয়েছে।
নগরীতে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের ধারণাটা অনেক আগের। নগর বিশেষজ্ঞরা যানজট নিরসনের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে ফ্লাইওভার নির্মাণ না করে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা তাদের প্রস্তাব গুরুত্ব দেয়নি। ফলে যানজট নিরসনে ফ্লাইওভারে কাঙ্ক্ষিত সফলতা মিলছে না। জানতে চাইলে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহসভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া ইত্তেফাককে বলেন, ‘অনেকগুলো কারণে যানজট হচ্ছে। কারণগুলো আগে চিহ্নিত করতে হবে। ফুটওভারব্রিজ হলেই যানজট নিরসন হবে, এমনটা নয়। আমাদের সিস্টেম মেনে উন্নয়ন কাজ করতে হবে। এখন উন্নয়নে সিস্টেম মানা হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ধারণা নিয়ে করলে সুফল পাওয়া যাবে। ট্রাফিক পুলিশে প্ল্যানিং বিভাগ নেই। তারা যা দেখছে তার ভিত্তিতে প্রস্তাব করেছে।’
এদিকে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ নগরীর ৯টি স্থানে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সিডিএকে চিঠি দিয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ জানায়, পথচারীদের রাস্তা পারাপারের কারণে বিভিন্ন যানবাহনের গতি ২০-২৫ কিলোমিটারের মধ্যে নামিয়ে আনতে হয়। এতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ছোটোখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।
এ ব্যাপারে সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেব। কারণ সিটি করপোরেশন নাকি কয়েকটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। তাই তাদেরগুলো বাদ দিয়ে বাকিগুলোর ব্যাপারে আমরা উদ্যোগ নেব।’
