কুমিল্লার আদালতে বিচারকের খাসকামরায় খুনের মামলার আসামি মো. হাসানের ছুরিকাঘাতে একই মামলার অপর আসামি মো. ফারুক খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক প্রদীপ মণ্ডল মামলার একমাত্র আসামি হাসানকে অভিযুক্ত করে তার বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতে সোমবার বিকালে এ চার্জশিট দাখিল করেন। এ মামলার চার্জশিটে আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি), পেশকার, অফিস সহকারীসহ ১৪ জনকে সাক্ষীভুক্ত করা হয়েছে। আদালতের অভ্যন্তরে বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে গত ১৫ জুলাই চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে এএসআই ফিরোজ আহম্মেদ বাদী হয়ে ঐ দিন রাতে ঘাতক হাসানের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। আসামি হাসান হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দেয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা ডিবির পরিদর্শক প্রদীপ মণ্ডল জানান, মামলা দায়েরের ৪৩ দিনের মাথায় একমাত্র আসামি হাসানকে অভিযুক্ত করে সোমবার বিকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-১-এর বিচারক মো. জালাল উদ্দিনের আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, ‘চার্জশিটে অভিযুক্ত আসামি হাসান এর আগে পুলিশ ও আদালতের কাছে ১৬১ ও ১৬৪ ধারায় ফারুক হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। তবে এ ঘটনার পর থেকে আদালত অঙ্গনের ৪০টি কোর্টে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের পর গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি আদালতের সীমানাপ্রাচীর উঁচু করাসহ সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সুপারিশ করেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’
