ফেনীর নুসরাত জাহান রাফির যৌন হয়রানির অভিযোগ জানানোর পরও ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পি কে এম এনামুল করিমের নিষ্ক্রিয়তার কোনো প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঐ যৌন হয়রানির ঘটনায় নুসরাতের মা থানায় মামলা করেন। মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা কারাগারে থাকাবস্থায় গত ৪ এপ্রিল রাফি ও তার মা এডিএমের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। মামলা করায় কিছু করার নেই বলে তাদের জানান এনামুল করিম। তার ঐ বক্তব্য আইনসংগত। তবে উভয় পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে গতকাল সোমবার এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর হাইকোর্ট বলেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির ঘটনা রোধে বর্তমান প্রধান বিচারপতির একটি রায় রয়েছে। ঐ রায়েই বলে দেওয়া হয়েছে যে, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে গভর্নিং বডি কী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ঐ রায় অনুযায়ী কি এক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? হয়নি।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে এনামুল করিমের সংশ্লিষ্টতা নেই। এ পর্যায়ে রিটকারী আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দের উদ্দেশে আদালত বলেন, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তাকে কি বিবাদী করেছেন? আইনজীবী বলেন, করা হয়নি। তখন হাইকোর্ট বলে, মামলায় পক্ষভুক্ত করা উচিত ছিল। এরপরই হাইকোর্ট বলে, মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হলেই রুলের ওপর বিস্তারিত শুনানি করা হবে।
হাইকোর্টের নির্দেশে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. হাবিবুর রহমানের করা তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার আকস্মিকতা ও পারস্পারিকতায় ফেনীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামানের দেওয়া লিখিত বক্তব্যে ‘এনামুল করিমের নিষ্ক্রিয়তা বা অবহেলার কথা বর্ণনা করে কিছু কিছু মিডিয়া যে সংবাদ প্রচার করেছে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি’ মর্মে দেওয়া বক্তব্যটি প্রনিধানযোগ্য ও যৌক্তিক মর্মে প্রতীয়মান হয়। কমিটির কাছে ডিসির দেওয়া বক্তব্যে বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে এডিএম মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি। ঘটনার সময় এডিএম প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য ঢাকায় অবস্থান করেন। তখন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এনামুল করিম এডিএমের ছুটিকালীন প্রতিকল্প কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এনামুল করিম একজন সত্, দক্ষ ও মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন কর্মকর্তা। তার নিষ্ক্রিয়তা বা অবহেলার কথা বর্ণনা করে কিছু মিডিয়া যে সংবাদ প্রচার করেছে, তার সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুলাই অধ্যক্ষের যৌন হয়রানির ঘটনার অভিযোগ পাওয়ার পরও ব্যবস্থা না নিয়ে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ ওঠে এনামুল করিমের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ‘এডিএম এনামুলের ভূমিকা, পুলিশের তদন্তের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন মন্ত্রণালয়ের’ শীর্ষক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে ঐ রিট করেন আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ।
