আপনি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী, ব্যতিক্রমী এ বিষয়ে কেন পরতে এলেন?- এমন প্রশ্নের জবাবে ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউট-এর শিক্ষার্থী সিমান্ত বলেন, ‘আসলে আমার বড় ভাই যখন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্যে দেশের বাইরে গেলেন, ঠিক তখন থেকেই আগ্রহটা জন্মায়। এমনকি এই বিষয়ে পড়ার জন্যে বিদেশে যাবার ইচ্ছাও ছিল আমার। তবে ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউট এই বিষয়ে ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা চালু হওয়ার সুযোগ হলো আমার নিজ দেশে থেকে স্বপ্ন পূরণের।’ সিমান্ত আরও বললেন,‘উচ্চতর ডিগ্রির জন্যে হয়ত দেশের বাইরে যেতে পারি, তবে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশেই ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে পড়ার সুযোগ তৈরি হবার পর প্রকৃত পক্ষে উপকৃত হয়েছে শিক্ষার্থীরা।’ একই বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা বলেন, ‘পর্যটনশিল্পে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। তাই দক্ষ জনশক্তি তৈরি হলে পর্যটনশিল্প সমৃদ্ধ হবে, আর ঠিক এই কারনেই এই বিষয়ে পড়তে আসা’।
বর্তমান বিশ্বে ‘পর্যটন’ একটি বড় শিল্প হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সমগ্র বিশ্বে এখন বছরে ১০০ কোটিরও বেশি পর্যটক নিজ দেশ থেকে আরেক দেশে যান ভ্রমণের নেশায়, নতুন কিছু দেখার আশায়, শেখার আশায়। মোট কথা, মানুষ ভ্রমণপ্রিয়। ভ্রমণে মানুষ রোজ খরচ করছেন প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। পর্যটন হচ্ছে ‘বেসিক হিউম্যান ট্রেড’। এতে তেমন কোনো উত্পাদন খরচ নেই। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে ও দক্ষ প্রশিক্ষিত জনশক্তি দিয়ে সেবা দিতে পারলে পর্যটন একটি লাভজনক শিল্প হিসেবে দার করানো সম্ভব। এখানে প্রচুর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হবে। ভবিষ্যতে পর্যটন থেকে প্রাপ্ত আয় অন্যান্য শিল্পকেও ছাড়িয়ে যাবে। ঠিক এমনটি জানালেন ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের উপদেষ্টা কে এম হাসান রিপন।
পর্যটনের সঙ্গে একান্তভাবে যে পড়াটির যোগসূত্র রয়েছে তাহলে হোটেল ম্যানেজমেন্ট। বলা যায় আগামীর পেশা পর্যটন ও হোটেল ম্যানেজমেন্ট ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট হলো পর্যটন ও সেবাবিষয়ক প্রাকটিক্যাল জ্ঞানের পাঠ। ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট শুধু পর্যটন বা হোটেল ব্যবস্থাপনা নিয়েই সীমাবদ্ধ নয়, বরং একই সঙ্গে রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটিয়ে কিভাবে এই শিল্পের উন্নয়ন করা যায় তা নিয়েও আলোচনা করা হয় এতে। এ ছাড়া দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে পর্যটনশিল্প এগিয়ে নিতে সহায়তা করে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট।
বিশ্বের প্রতি ১১টি চাকরির মধ্যে ১টি পর্যটন শিল্পে হয়ে থাকে। জিডিপিতে অবদান ৬ শতাংশ। পর্যটন বিশেষজ্ঞরা তাদের গবেষনার দ্বারা ধারণা করছেন, ২০২০ সাল নাগাদ বিশ্ব পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৬০ কোটি। এই বিপুল সংখ্যক পর্যটকের ৭৩ শতাংশই ভ্রমণ করবেন এশিয়ার দেশগুলোতে। পর্যটন শিক্ষা শতভাগ কর্মমুখী শিক্ষা। বাংলাদেশে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট অথবা হোটেল ম্যানেজমেন্ট বিষয়টি নতুন হলেও বিশ্বের অনেক দেশে বহু আগ থেকে তা পড়ানো হয়।
বাংলাদেশ টেকনিকাল এডুকেশন বোর্ড (বিটিইবি) এর অধীনে ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউট ২০১৮ সাল থেকে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি টেকনোলোজি-এর উপর ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম পরিচালনা করে আসছে। ৪ বছর মেয়াদি কোর্সে ৮ টি পর্ব/সেমিষ্টার সম্পন্ন করতে হয়। সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাশ অনুষ্ঠিত হয়। তাছাড়া এখানে শুধুমাত্র ডে-শিফট-এ ক্লাস হয়ে থাকে। ফলে শিক্ষার্থীরা পার্টটাইম কাজ করার সুযোগ পায়।
ভর্তির যাবতীয় তথ্য পেতে ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউট,বাড়ি ২বি, রোড নং-১২, মিরপুর রোড, ধানমণ্ডি, ঢাকা ১২০৭ এই ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন।
