সকল মামলায় একসঙ্গে গ্রেফতার দেখানোর আর্জি

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৩৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘একতরফাভাবে করার’ সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাদেরকে নতুন নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখা হচ্ছে বলে দলটির স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন নতুন করে কোনো হয়রানিমূলক মামলা দায়ের এবং কাউকে গ্রেফতার না করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু ইসির নির্দেশ অবজ্ঞা করে প্রতিদিনই চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় নতুন মামলা হচ্ছে। বাসা-বাড়ি তল্লাশির নামে বিএনপি নেতা-কর্মীদেরকে হয়রানি ও ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের ভয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা নিজের বাসায় থাকতে পারছেন না, কর্মস্থলেও যেতে পারছেন না। নতুন করে দায়ের হওয়া ‘গায়েবি মামলায়’ নিম্ন আদালত থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদেরকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। আবার উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। পুনরায় জেলগেট থেকে গ্রেপ্তার করে নতুন কোনো মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। বিএনপি নেতারা বলেন, ‘গায়েবি মামলার’ বিষয়ে ন্যূনতম কোনো তথ্য আগে থেকে কারো জানা থাকে না। জেলগেট থেকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তারা আরেক মামলায় আসামি হওয়ার বিষয়ে জানতে পারেন। বর্তমানে এসব হয়রানিমূলক গায়েবি মামলা থেকে বাঁচতে এবং জামিনের সুবিধার্থে বিএনপি নেতারা স্বপ্রণোদিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে যত মামলা আছে সবগুলোতে একসঙ্গে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতের কাছে আবেদন করছেন যাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘নজিরবিহীন’ বলে মনে করছেন। সরকার দলীয় লোকজনের সঙ্গে পুলিশের ‘সুসম্পর্ক’ থাকার কারণে চট্টগ্রামে একের পর এক গায়েবি মামলা হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপি নেতারা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনে রদবদলের দাবি জানান।     

বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে মোট মামলা রয়েছে ৪৫টি। গত ২৬ নভেম্বর কোতোয়ালি ও সদরঘাট থানায় তিনটি করে মোট ছয়টি নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার বাকলিয়া থানার তিনটি নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। শাহাদাতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বাকলিয়া থানায় দায়ের হওয়া বিষ্ফোরক ও নাশকতার তিনটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছিলাম। আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। পরে তার জামিনের আবেদন করেছিলাম আমরা, আদালত তা নামঞ্জুর করেছেন। শাহাদাত হোসেনের নামে বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া পেন্ডিং মামলাগুলোতে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছি। পরে এসব মামলায় জামিন চাওয়া হবে। নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম দুলাল জানান, দুইবার ডা. শাহাদাতকে আদালত থেকে ডিভিশনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাকে রাখা হয়েছে ফাঁসির আসামিদের মত কনডেম সেলে।

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরী তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলায় জামিনে রয়েছেন। তা সত্ত্বেও পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে হাটহাজারী থানায় ৫ বছর আগে দায়ের হওয়া নাশকতার একটি মামলায় পুনরায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। ২০১৩ সালের ৬ মে দায়ের হওয়া ওই মামলার এজাহারভুক্ত ৫৩ আসামির মধ্যে আসলাম চৌধুরীর নাম ছিল না। ৫ বছর তদন্তের পর ওই ঘটনায় আসলাম চৌধুরীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে পুলিশ দাবি করছে।

নগর বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকবাল চৌধুরীকে গত ১১ আগস্ট দলীয় কার্যালয়ের সামনে হতে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। গত ৩ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত হতে জামিন নিয়ে বের হওয়ার পথে জেলগেট থেকে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এরপর তাকে ১৬ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ থানার একটি নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়। নগর যুবদলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হাবিবুল ইসলাম হাবিব সকল মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে থাকলেও গত বুধবার রাতে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে আকবর শাহ থানায় দায়ের হওয়া নাশকতার দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

নগর বিএনপির সহ যুব বিষয়ক সম্পাদক আজাদ বাঙালির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলায় জামিনে ছিলেন। গত বুধবার তাকে পাহাড়তলি থানা পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জামিনে থাকা মামলায় পুনরায় কারাগারে প্রেরণ করে। তিনি আদালতে তার জামিনের কাগজপত্র দেখালেও বিচারক তা গ্রহণ করেননি বলে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম দুলাল জানান।   

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, কথিত ‘গায়েবি মামলা’ সম্পর্কে তার কাছে তথ্য নেই। সুস্পষ্টভাবে কেউ অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।