নিষেধাজ্ঞা থাকলে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নয় :রুহানি

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৯, ২১:২৭

সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো বৈঠক হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। পরমাণু চুক্তি নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটাতে রুহানির সঙ্গে বৈঠক করতে প্রস্তুত—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একথা বলার পর মঙ্গলবার এই জবাব দিলেন রুহানি। সোমবার জি-৭ সম্মেলনকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ঐ কথা জানিয়েছিলেন। এদিকে পরমাণু চুক্তির শর্ত পালনে ইরানের ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

ইরানের সঙ্গে বিশ্বের শক্তিধর ছয়টি দেশের ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে গত বছর ট্রাম্প সরে আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে।সম্প্রতি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে ট্রাম্প ও রুহানির মধ্যে বৈঠকের উদ্যোগ নেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

রুহানি বলেন, ইরান সব সময় আলোচনার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু প্রথমে ইরানের ওপর আরোপিত সব অবৈধ, অন্যায্য ও পক্ষপাতদুষ্ট নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা ফ্রান্সের বিয়ারিেজর সংবাদ সম্মেলনেই নাকচ করেছেন ট্রাম্প।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানিয়েছিলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসতে প্রস্তুত। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ বৈঠক হতে পারে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্প ও রুহানি দুজনেরই আগামী মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে পরমাণু চুক্তির শর্ত পালনে ইরানের ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সোমবার জি সেভেন শীর্ষ সম্মেলন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখন পারমাণবিক চুক্তির শর্ত মেনে নিতে এবং আলোচনা পুনরায় শুরু করতে ইরানের সামনে একটি পরিষ্কার সুযোগ এসেছে। একই সঙ্গে ঐ অঞ্চলে ঐক্যবিনাশী আচরণ বন্ধ করারও সুযোগ এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। জনসন বলেন, কোনে পরিস্থিতিতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে দেওয়া উচিত হবে না।