অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন প্রসাশনিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত দক্ষ ও সুদূরপ্রসারী। আমার জীবনের অনেক বড়ো একটি প্রাপ্তি হচ্ছে আমি চারবার এই মহান নেতার সান্নিধ্যলাভের সুযোগ পেয়েছিলাম, কিছু নির্দেশনা পেয়েছিলাম। তিনি দেশ পরিচালনার জন্য স্বল্প সময়ে যে যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছিলেন, তা এখনো অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং ভবিষ্যতেও এর প্রয়োজনীয়তা ফুরাবে না। যারা তাকে হত্যা করেছিল, তারা ভেবেছিল তারা বাঙালির মন থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে দেবে। কিন্তু তারা ভুল করেছিল, কারণ তারা বুঝতে পারেনি বঙ্গবন্ধুর মতো নেতাকে মুছে দেওয়া যায় না। যত দিন এ পৃথিবী থাকবে, যত দিন সূর্য উঠবে, তত দিন তিনি থাকবেন সূর্যের মতো দেদীপ্যমান।’ শোকের মাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে এভাবে স্মরণ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমেরিকার মায়েরা তাদের সন্তানদের কোলে নিয়ে বলেন, বাবা তুমি বড়ো হয়ে জর্জ ওয়াশিংটন হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার মায়েরা বলেন, বাবা তুমি বড়ো হয়ে নেলসন ম্যান্ডেলা হবে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের মায়েরা বলতে পারেন না যে তুমি বড়ো হয়ে বঙ্গবন্ধু হবে। কারণ কিছু কুচক্রী আমাদের সেই জায়গাটাতে পৌঁছাতে দেয়নি। কিন্তু তারা জানে না, জাতির পিতাকে কখনো জাতির কাছ থেকে দূরে রাখা যায় না। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু নেই। বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন গ্রিক রূপকথার সেই ফিনিক্স পাখির মতো। ফিনিক্স পাখিরা মরে না। একটি ফিনিক্স পাখি যখন হাজার বছরের কাছাকাছি চলে আসে, তখন সে নিজে একটা ঘর বাঁধে। ঘর বেঁধে সে তার ঘরে ঢুকে যায়। পরে নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়, আগুনে সে আত্মাহুতি দেয়। ওখান থেকে যে ছাই-ভস্ম হয়, তা থেকে আরেকটি ফিনিক্স পাখির জন্ম হয়। এভাবে চলতে থাকে। এ জন্য বলা হয়, ফিনিক্স পাখিদের কখনো মৃত্যু হয় না। আসুন, আমরা জাতির পিতাকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করি। তার ত্যাগ ও তিতিক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ ধারণ করে সবাই মিলে একটি অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’
