বরিশাল বোর্ডে এইচএসসির উত্তরপত্রে জালিয়াতি

পরীক্ষার্থী ও বোর্ড কর্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৯, ২২:১৯

বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জিপিএ-৫ পাইয়ে দেওয়া কিংবা ফেল করাদের পাস করিয়ে দিলেও এবার জালিয়াতির প্রমাণ মেলায় তা সর্বত্র তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৯ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তরপত্র জালিয়াতির অভিযোগে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কতৃপক্ষ ১৮ পরীক্ষার্থীসহ ১৯ জনকে আসামি করের্  মামলা দায়ের করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আনোয়ারুল আজিম বাদী হয়ে দায়েরকৃত মামলায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বরিশাল বোর্ডের রেকর্ড সাপ্লায়ার গোবিন্দ চন্দ্র পালকেও আসামি করা হয়েছে। মামলার বিষয়টি জানিয়ে এয়ারপোর্ট থানার ওসি এস.এম মাহাবুবুর রহমান জানান, বোর্ডের কর্মচারী গোবিন্দসহ অভিযুক্ত ১৮ পরীক্ষার্থীকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে বোর্ডের আরও অনেকে জড়িত রয়েছে।

জালিয়াতি ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মোঃ মোয়াজ্জেম  হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঐ কমিটিকে গত রবিবার ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা বলা হলেও আজ বুধবার শেষ দিনে আরো ৭ দিনের সময় চাওয়া হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির একজন সদস্য জানান, তদন্তের স্বার্থে অনেকের সাক্ষাতকার নেওয়া প্রয়োজন। তাই আরো ৭ দিনের সময় চাওয়া হচ্ছে সঠিক ভাবে তদন্ত করার জন্য। তবে ইতিমধ্যে  রেকর্ড শাখায় কর্মরত বেশ কয়েকজন কর্মচারীর, উচ্চতর গণিতের প্রধান পরীক্ষক পিরোজপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, নিরীক্ষক নলছিটি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আবু সুফিয়ানের সঙ্গেও কথা বলেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

বরিশাল শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ ইউনুস জানান, ২০১৯ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় উচ্চতর গণিত বিষয়ের ১ম পত্রের পরীক্ষার তারিখ ছিলো ৪ মে। ঘূর্ণিঝড় ফনির কারনে উক্ত পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তিত হয়ে ১৪ মে অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে লিখিত উত্তরপত্র বিতরণের পরে তালিকা বহির্ভূত একজন পরীক্ষককে পরীক্ষা শাখার অফিস সহকারী গোবিন্দ্র চন্দ্র পাল উচ্চতর গণিত ১ম পত্রের ২৬৯টি উত্তর মূল্যায়নের জন্য ঐ বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক পিরোজপুরের সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজের সহযোগী অধ্যাপক জিএম শহিদুল ইসলামের কাছে জমা দেন। পরবর্তীতে প্রধান পরীক্ষকের নিয়োগকৃত নিরীক্ষক নলছিটি সরকারি কলেজের প্রভাষক মোঃ আবু সুফিয়ান নিরীক্ষাকালে ১৮টি উত্তরপত্রে প্রধান পরীক্ষক কর্তৃক প্রনয়নকৃত নমুনা উত্তরমালার সাথে হুবহু অঙ্ক কষার ধরণ ও ভাষাগত মিল পাওয়ায় প্রধান পরীক্ষকের নজরে আনেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি প্রতিবেদন আকার ১৮টি উত্তরপত্র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে জমা দেন। এরপর প্রতিটি উত্তরপত্রের বাম পাশের উপরের কর্নারে একটি বিশেষ চিহ্ন দেওয়া থাকায় এবং সৃজনশীল অংশে মোট ৫০ নম্বরের স্থলে ৫০ পাওয়া এবং তাদের বহু নির্বাচনী অংশের নম্বর সে তুলনায় কম থাকায় শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ ১৮ জন শিক্ষার্থীর ফলাফল স্থগিত রেখে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করে। এরপর শিক্ষার্থীদের সাক্ষাতকার গ্রহনে বোর্ডের পরীক্ষা শাখায় কর্মরত অফিস সহকারী গোবিন্দ্র চন্দ্র পাল অর্থের বিনিময়ে এমন কাজ করেছেন বলে কয়েকজন শিক্ষার্থী স্বীকারোক্তি দেয়।

চেয়ারম্যান জানান গোবিন্দ্র চন্দ্র পাল কৃতকর্ম থেকে রেহাই পেতে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করিয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সম্পর্কে অসত্য তথ্য পরিবেশন করেন।