নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নৌকার মাঝি শামীম ওসমান, ধানের শীষ কার?

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০৯

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বর্তমান এমপি শামীম ওসমানের নৌকা প্রতীক নিশ্চিত হলেও ধানের শীষ আসলে কার এ প্রশ্ন এখন ভোটার ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিএনপি এ আসনে মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শিল্পপতি শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদকে। অপরদিকে হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। 

নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে এ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন দুইবারের এমপি শামীম ওসমান। মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাচনী প্রচারণা থেকে শুরু করে দলের সাংগঠনিক তত্পরতা বৃদ্ধিতে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা এলাকায় প্রতিনিয়তই বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

নৌকার মাঝি নিশ্চিত হলেও ধানের শীষ কার হতে যাচ্ছে তা নিয়ে এলাকার সর্বত্র চলছে আলোচনা। এ আসনে বিএনপি শাহ আলম ও মামুন মাহমুদকে মনোনয়নের চিঠি দেয়ায় কেউ এখনো প্রচারণা বা সাংগঠনিক কার্যক্রম কোনোটিই করছেন না। এ ছাড়াও বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করে দলীয় মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে বিএনপি’র একাধিক সূত্র জানায়। 

তবে মাঠে শাহ আলম ও মামুন মাহমুদের অনুসারীদের দেখা না গেলেও সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের অনুসারীরা রয়েছেন। তার অনুসারীরা সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক করে গিয়াসউদ্দিনের পক্ষে জনমত তৈরির কাজ করছেন। গিয়াসউদ্দিনের অনুসারীরা বলছেন, সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন সার্বক্ষণিক তৃণমূলের সংস্পর্শে রয়েছেন এবং মাঠে অবস্থানকারী জনপ্রিয় নেতা। তিনি দলকে সুসংগঠিত করতে বহু ত্যাগ শিকার করে মামলা, জেল জুলুম মাথায় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। দলের দুর্দিনে তিনি সকলের পাশে থেকেছেন। গায়েবীসহ বিভিন্ন মামলায় নেতাকর্মীদের জামিন করিয়েছেন। এ ছাড়াও জনসাধারণের ভোটে তিনি ২০০১ সালে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়ে এলাকায় বহু উন্নয়ন করেছেন। কাজেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ তারই প্রাপ্য।

অপরদিকে শাহ আলমের অনুসারীদের দেখা না মিললেও মামুন মাহমুদের অনুসারীরা বলছেন, মামুন মাহমুদ ছাত্রদলের রাজনীতি করে অনেক চড়াই উতরাই পার করে বর্তমানে পরিপূর্ণ একজন রাজনীতিবিদ। তিনি জেল, জুলুম, হুলিয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন শুধু দলকে ভালোবেসে কাজ করে যাচ্ছেন। দলের দুর্দিনে জীবনবাজি রেখে রাজপথে লড়াকু সৈনিকের ভূমিকা রেখেছেন। তিনি দলের সর্বোচ্চ পুরস্কার দলীয় মনোনয়নপত্র হাতে পেলেও প্রতীক তারই প্রাপ্য বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা। শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ কার হাতে উঠে আসে তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।