‘রিকশা গার্ল’-এর ক্যাম্পেইনে নন্দিত নির্মাতা

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৯, ১৯:২৫

মাত্র এক সপ্তাহ আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী জানিয়েছিলেন, ‘সম্ভবত আবির্ভাবের পর সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সিনেমা।’ তবে হতাশার সঙ্গে আশার কথাও বললেন এবার। অমিতার রেজার আসন্ন চলচ্চিত্র ‘রিকশা গার্ল’ নিয়ে বললেন, ‘রিকশা গার্ল সম্পর্কে ধারণা আছে। এটি একটি ভালো গল্প বলে আমার মনে হয়েছে। আর ছবি রিলিজ হতে এখনো আরো সময় আছে। ছবির ক্যাম্পেইন শুরু হোক, আমিও ছবির ক্যাম্পেইনে অংশ নেব।’ এতে বোঝা যায়, ভালো চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নিতে, প্রচারে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা সবসময়ই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে ফারুকী আরো বলেছেন, ‘নতুন জীবনধারা, সোশ্যাল মিডিয়া, স্ক্রলিং সাইকি, রেস্টলেসনেস, নিউ বিজনেস মডেল, বক্স অফিসের অতিমূল্যায়ন, নাম্বার গেম এইরকম নানাবিধ চক্করে পড়ে সিনেমা একটা কঠিন জায়গায় এসে খাড়া।

তবে আয়নাবাজির সফলতার পর আবারো নতুন সিনেমা নিয়ে আসছেন অমিতাভ রেজা। দেশে চলচ্চিত্রে সৃষ্টিশীলতা আর নতুনত্বের এক বাতাস বারবারই বইয়ে দিয়েছেন অমিতাভ রেজা। আর তার হাত ধরেই এবার মিতালি পার্কিন্সের বেস্ট সেলার বইয়ের গল্প নিয়ে আসছে রিকশা গার্ল। আর ইতিমধ্যেই এই চলচ্চিত্রের উন্মোচন হওয়া পোস্টার সাড়া জাগিয়েছে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে।’

রঙিন ক্যানভাসে যেন দুরন্ত এক কিশোরীর মুখ। শ্যাম বর্ণের সেই মুখে আর চোখে যেন না বলা অনেক গল্প। মায়াবী মুখটায় ভেসে আছে এক রিকশা কন্যার উপাখ্যান। আর এমন একটি চরিত্র ও গল্প নিয়ে অমিতাভ রেজার চলচ্চিত্র ‘রিকশা গার্ল’-এর রঙিন পোস্টার। 

চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছেন এরিক জেমস্ এডামস। যৌথভাবে নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন ফরিদুর রেজা সাগর ও জিয়াউদ্দিন আদিল। চিত্রনাট্য করেছেন নাসিফ ফারুক আমিন ও শর্বরী জোহরা আহমেদ।

গত চার মাস ধরে পাবনা, গাজীপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে ‘রিকশা গার্ল’ ছবির শুটিং অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটিতে দেশের প্রথম কোনো সিনেমায় শতাধিক বস্তিঘরের সেট তৈরি করা হয়। যা এরই মধ্যে আলোড়ন তুলেছে সিনেমা পাড়ায়। রিকশা গার্ল নির্মিত হচ্ছে মিতালী পার্কিন্সের বেস্টসেলার বই ‘রিকশা গার্ল’ অবলম্বনে।

রিকশা কন্যা নাইমার চরিত্রে অভিনয় করছেন নভেরা রহমান। রিকশাচালক পিতার বড় মেয়ে দুরন্ত কিশোরী নাইমা। মফস্বলে বেড়ে ওঠা স্বাধীনচেতা নাইমার জীবন তার রংতুলির মতোই বর্ণিল। নাইমা আলপনা এঁকে যা উপার্জন করেন, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। অভাবের ভেতর দিয়ে চলতে থাকা পরিবারটির দুর্দশা শেষ হয় না এই আয়ে। তবে জীবনের হরেক রকমের রং মিলেমিশে নাইমার তুলির আঁচড়ে আঁকা হয় সুন্দর সুন্দর সব আলপনা। একদিন চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে সে। নাইমার জীবনে আসে নতুন নতুন সব বাঁক। বাঁকে বাঁকে নতুন নতুন সব অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়ে সাহসী পথচলা শুরু হয় এক রিকশা কন্যার।