১৯৭৩ সালে আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুকে দেখে কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ট্রো বলেছিলেন, ‘আমি হিমালয় দেখিনি কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখেছি।’ বঙ্গবন্ধুকে সমাজতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় কাস্ট্রো বলেছিলেন, ‘সিআইএ থেকে সাবধান। সুযোগ পেলেই ওরা আপনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে।’ বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের ভাষণে বলেছিলেন, ‘বিশ্ব আজ দুই শিবিরে বিভক্ত—একটি শোষকের অপরটি শোষিতের। আমি শোষিতের দলে।’
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু নির্দেশ না দিলে কারো সাধ্য ছিল না বাংলার মাটি থেকে ভারতীয় সৈন্য সরানোর।’
ভারতের সর্বোদয় নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণ ১৯৭১ সালে বলেছিলেন, ‘এ যুগের সবচেয়ে বড় অহিংস গান্ধীবাদী নেতা হলেন শেখ মুজিবুর রহমান।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের বন্ধু।’
একজন বিদেশি সাংবাদিক বঙ্গবন্ধুকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আপনার গুণ কী?’ বঙ্গবন্ধু জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমি বাংলার মানুষকে ভালোবাসি।’ সাংবাদিক আবার জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আপনার দোষ কী?’ বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি তাদের খুব বেশি ভালোবাসি।’
বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশে হত্যার ষড়যন্ত্রের গোপন সংবাদ পেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী পিয়ের ট্রুডো তাঁকে সাবধান হতে বলেছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁদের আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, ‘বাংলার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। তারা আমাকে হত্যা করবে না।’
বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলে কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ট্রো বলেছিলেন, ‘শেখ মুজিবের মৃত্যুতে বিশ্বের শোষিত মানুষ হারাল তাদের একজন মহান নেতাকে। আমি হারালাম একজন অকৃত্রিম বিশাল হূদয়ের বন্ধুকে।’
জার্মান চ্যান্সেলর উহলি ব্রান্ট বলেছিলেন, ‘মুজিব হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যারা মুজিবকে হত্যা করেছে তারা যে কোনো জঘন্য কাজ করতে পারে।’
বঙ্গবন্ধু রবীন্দ্র সাহিত্য পড়তেন। রবীন্দ্রনাথের জীবনাদর্শে নিজেকে গড়বার চেষ্টা করতেন। মানুষকে ভালোবাসতেন রবীন্দ্রনাথের মতোই। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘মানুষের উপর আস্থা হারানো মহাপাপ।’ শত্রুদের ষড়যন্ত্রের কথা জেনেও, তাদের হাতে তাঁর জীবনাশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু তাদের ভালোবেসেছিলেন, তাদের বিশ্বাস করতেন। নিজের জীবনের বিনিময়েও তিনি মানুষের উপর আস্থা হারানোর মতো মহাপাপ করেননি।
ভারতের মনিপুর রাজ্যের প্রধান কবি এলাংবেম নীলকান্ত সিংহ বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে লিখেছিলেন, ‘মৃত্যুই তোমার শেষ গন্তব্য নয়, বঙ্গবন্ধু, তোমার জীবন তো এক অনির্বান শিখা, যা জ্বলতে থাকবে, উজ্জ্বলতা ছড়াতে থাকবে অনাদি অনন্তকাল ধরে।’
১৯৭৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুকে ‘জুলিও কুরি শান্তি পদক’ প্রদানকালে শান্তি পরিষদের মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বলেছিলেন, ‘শেখ মুজিব শুধু বঙ্গবন্ধু নন, আজ থেকে তিনি বিশ্ববন্ধুও বটে।’
