পোলট্রি ফিডের নমুনা পরীক্ষায় জটিলতা কাটুক

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৯, ২১:০৩

আমদানি করা বিবিধ পণ্যের নমুনা পরীক্ষার জটিলতা লইয়া সমস্যায় পড়িবার বিষয়টি নূতন নহে। নানান কারণে ইহা হইয়া থাকে। সম্প্রতি এই জটিলতায় পড়িয়াছে পোলট্রি খাত। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন হইতে জানা গিয়াছে, কেবলমাত্র আমদানি করা পণ্যের নমুনা পরীক্ষার জটিলতায় বন্দর হইতে পণ্য খালাসে কমপক্ষে ১৭ হইতে ২০ দিন সময় লাগিতেছে। কখনো এই সময়ক্ষেপণ এক মাস অবধি হইয়া যাইতেছে। ইহার ফলে পোলট্রি খাদ্যের কাঁচামাল ডিডিজিএস ও ফিশমিল আমদানিতে প্রতি মাসে আমদানিকারকদের বাড়তি গুনিতে হইতেছে ১৫ হইতে ২০ কোটি টাকা। ইহা লইয়া আশঙ্কা প্রকাশ করিয়াছেন সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা।

এমনিতেই এই বত্সর দেশে ভয়াবহ বন্যার কারণে মাছ, হাঁস-মুরগি ও পশুখাদ্যের কিছুটা সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হইয়াছে। এমতাবস্থায় আমদানি করা পোলট্রি ফিডের নমুনা পরীক্ষার জটিলতা দেখা দিলে তাহার প্রতিক্রিয়া খুচরা বাজারেও পড়িতে বাধ্য। এমনকি অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণের জন্য অতিরিক্ত যে ১৫/২০ কোটি টাকা ব্যয় হইতেছে, তাহাও তোলা হইবে খুচরা বাজার হইতেই। সুতরাং চেইন রিঅ্যাকশনের মতো এই সমস্যায় ভিন্ন ভিন্ন রূপে ছড়াইয়া পড়িবে ইহার শাখা-প্রশাখায়। এই ক্ষতি একপর্যায়ে পোলট্রি শিল্পের সর্বত্র ছড়াইতে পারে। এই আশঙ্কায় চরম হতাশা প্রকাশ করিয়াছেন পশুখাদ্য প্রস্তুতকারক ও কাঁচামাল আমদানিকারকরা। তাহা ছাড়া বন্দরে পণ্য খালাসে জটিলতা লইয়া গত সপ্তাহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে বৈঠকও করিয়াছেন পোলট্রি খাতের উদ্যোক্তারা। এই বিষয়ে তাহারা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসমপদ অধিদপ্তরকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানাইয়াছেন। প্রকৃতপক্ষে এই দীর্ঘসূত্রিতার নেপথ্যে রহিয়াছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরেরই একটি নির্দেশনা। গত ২৩ জুন এক চিঠিতে ফিশমিল ও ডিডিজিএস আমদানির ক্ষেত্রে সকল চালানে চট্টগ্রামের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে নমুনা সংগ্রহপূর্বক পিআরটিসি ল্যাবে পরীক্ষার নির্দেশনা দেওয়া হইয়াছে। নির্দেশনাটি গুরুত্বপূর্ণও বটে। কারণ এই পরীক্ষায় যেই বিষয়গুলি নিরীক্ষার কথা বলা হইয়াছে তাহা হইল—শূকরের উপজাতের উপস্থিতি, মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষা, ভারী ধাতুর উপস্থিতি ও ক্ষতিকারক অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এই পরীক্ষায় অতিরিক্ত ‘বোভাইনের উপস্থিতি’ এবং প্রক্সিমেটিক অ্যানালাইসিস করিবার শর্তও যুক্ত করিয়া দিয়াছে। ইহার পর হইতেই ল্যাব পরীক্ষার রিপোর্ট পাইতে এবং পণ্য খালাস করাইতে মাত্রাতিরিক্ত সময় ব্যয় হইতেছে। যদিও ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার জন্য সময় ন্যূনতম চার কার্যদিবস এবং সর্বোচ্চ ১০ কার্যদিবস লাগিতে পারে বলিয়া মনে করেন সংশ্লিষ্ট খাতের একজন বিশেষজ্ঞ।

স্পষ্টতই যেই যেই বিষয়গুলি নিরীক্ষার কথা বলা হইয়াছে, অর্থাত্ শূকরের উপজাত বা ভারী ধাতু কিংবা ক্ষতিকারক অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি—এইগুলি যাচাই করা বিশেষভাবে জরুরি। তবে ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের মতের সহিত সম্মতি জানাইয়া আমরাও মনে করি, পণ্যের  এইসকল পরীক্ষায় আপত্তির কোনো কারণ নাই, কিন্তু পরীক্ষা, অ্যাসেসমেন্ট, রিঅ্যাসেসমেন্টের নামে সময়ক্ষেপণ যেন না হয়—সেই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।