গড়াইয়ের ভাঙনে চার জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৯, ২১:০৯

গড়াইয়ের  ভাঙনে নদী তীরবর্তী চার জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িঘর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। প্রতি বছরই ভাঙন রোধে অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এতে শুধু টাকা পানিতে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গড়াইয়ের ভাঙনে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়াবাজার ও গ্রামের বেশ কিছু জায়গা-জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। তার ভাটিতে চাপড়া এলাকা ভাঙনকবলিত হয়েছে। বহু চেষ্টার পর কুমারখালীতে গ্রোয়েন নির্মাণের পর শহর রক্ষা পেয়েছে। তার আগে অবশ্য এম এন হাইস্কুলসহ  ঐতিহ্যবাহী এ শহরে পুরোনো এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এরপর খোকসা উপজেলার হিজলাবট এলাকা ভাঙনকবলিত হয়েছে। প্রতি বছর নতুন এলাকা ভাঙন গ্রাস করছে। তার ভাটিতে কমলাপুর এলাকা ভাঙনের মুখে পড়ে।  এরপর ভাঙনের মুখে পড়ে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার বরুরিয়া, কৃষ্ণনগর, গোসাইডাঙ্গা, সারুটিয়া, শাহাবাড়ে, বন্দেখালী, মাদলা ও মাঝদিয়া গ্রাম। লাঙ্গলবাধের ভাটিতে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলা নদী তীরবর্তী আম্বলশা, গয়াসপুর ও নাকোল ইউনিয়নেরর অনেকগুলো গ্রাম ভাঙন কবলিত হয়।  নদীর বামতীরে রাজবাড়ি জেলার পাংশা ও বালিয়াকান্দি উপজেলায় নদী তীরবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রাম ভাঙনের কবলে পড়েছে। প্রতি বছরই বাড়িঘর, ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ ভাঙন চলছে শৈলকুপার বরুরিয়া গ্রামে। গ্রামটির ১২০০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখানে ভাঙন গঙ্গা কপোতাক্ষ প্রকল্পের প্রধান সেচ খালের কাছাকাছি চলে এসেছে।  সেচ খাল গ্রাস করলে জি কে প্রকল্পের একাংশ অকার্যকর হয়ে পড়বে। এখানে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। কিন্তু ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মাহামুদুল হাসান মামুন জানান, তার ইউনিয়নে ৬ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন চলছে। বরুরিয়া গ্রামটি প্রায় নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে। অনেক পরিবার জমি, বাড়িঘর হারিয়ে ছিন্নমূল হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুষ্টিয়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান গড়াই নদীর দুতীরে বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলায় ১৮ কিলোমিটার গড়াই নদীর ভাঙন রোধের একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ প্রকল্পটি পাশ হলে বাস্তবায়নে ১১০০ কোটি টাকা লাগবে বলে তিনি জানান।