চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া বিদ্যালয়

মাঠ জুড়ে জলাবদ্ধতা শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৩

গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ জুড়ে জমে আছে পানি। জমে থাকা ঐ পানিতে ভাসছে পরিত্যক্ত বোতল, পলিথিনসহ অনেক জিনিস। এতে পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এই পানি রীতিমতো ব্যাঙ আর মশার বংশ বিস্তারের নিরাপদ আবাসস্থল হয়ে উঠেছে। ফলে দুর্ভোগে রয়েছে শিক্ষার্থীরা।

এদিকে মাঠটি জলমগ্ন থাকায় কোমলমতি শিশুরা খেলাধুলা করতে পারছে না। দোলনাসহ খেলার সামগ্রীগুলোও পানির মধ্যে। জলমগ্ন মাঠের উত্তরে একটি ডোবা রয়েছে। আর ঐ পানিতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় শিশুদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানালেন এক শিক্ষক। আবার অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মালিহা, তৃতীয় শ্রেণির সোমো, দ্বিতীয় শ্রেণির হাবিবা ও প্রথম শ্রেণির নুসরাত জাহান জানায়, বিদ্যালয়ের মাঠটি পানিতে তলিয়ে গেছে। এ কারণে বিদ্যালয়ে আসার পর শিক্ষকরা বের হতে দেন না। খেলাধুলাও করা হয় না। মাঠে গেলেই ভয় লাগে।

প্রধান শিক্ষক মো. ইয়াকুব আলী জানান, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৬২। ফলাফলেও ভালো বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ের প্রায় ২৮ শতাংশ খেলার মাঠের সম্পূর্ণই জলাবদ্ধ। কারণ মাঠের উত্তর দিকে ডোবা আর দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সরুপথ। এখানে পানি নিষ্কাশনের জন্য কালভার্ট থাকলেও তা অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে বৃষ্টির জমে থাকা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয় প্রায় বছর জুড়েই। এতে করে পাঠদানও ব্যাহত হয়। এই সংকট নিরসনে তারা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত দিয়েছেন বলে জানান। তবে তাতে কোনো লাভ হয়নি।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোস্তানুর রহমান রাংকু জানান, বেশিরভাগ শিশুর অভিভাবক শিশুদের আনা-নেওয়া করেন না। এতে করে ঝুঁকিতে থাকে শিশু।

বিদ্যালয়ের সভাপতি ব্যবসায়ী মো. জুমির উদ্দিন মণ্ডল জানান, জলাবদ্ধতার ব্যাপারে জনপ্রতিনিধিদের জানানো হয়নি।

গুরুদাসপুর প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম রফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতার ব্যাপারে তাকে কিছু জানানো হয়নি। তাছাড়া  পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ড্রেন নির্মাণ করলে হয়তো এ সমস্যা থাকবে না। অফিসের কাজে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফিরে এসে জলবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন।