গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জস্থ রংপুর চিনিকলের বিরোধপূর্ণ জমি (সাহেবগঞ্জ ইক্ষুখামার) নিয়ে আবারও হাতাহাতি-মারপিটের ঘটনায় চার জন আহত হয়েছে। চিনিকলের শ্রমিকরা ঐ জমিতে চাষ করতে গেলে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি পুনরুদ্ধার সংগ্রাম কমিটির লোকজন তাতে বাধা দেয়। এতে মারামারির ঘটনা ঘটে এবং উভয়পক্ষের চার জন আহত হয়।
আহতরা হলেন—সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি পুনরুদ্ধার সংগ্রাম কমিটির চুনু মিয়া, সবুজ মিয়া ও জাকারিয়া ইসলাম এবং চিনিকলের ট্রাক্টর চালক নুরুল ইসলাম। তাদেরকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভূমি পুনরুদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ডা. ফিলিমন বাস্কে অভিযোগ করে বলেন, বিরোধপূর্ণ সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের এসব জমিতে স্থানীয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে ডেকে মৌখিকভাবে জানানো হয় এই জমি নিয়ে চিনিকল ও স্থানীয় সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চলমান। তাই বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষ জমিতে যেতে পারবে না। কিন্তু চিনিকল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বারবার জমি চাষাবাদের চেষ্টা করছে। বুধবার বিরোধপূর্ণ ঐসব জমিতে আবারও চিনিকল শ্রমিকরা ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করতে গেলে ভূমি পুনরুদ্ধার সংগ্রাম কমিটির লোকজন বাধা দিলে শ্রমিকরা তাদেরকে মারপিট করে।
আরও পড়ুন: বিশ্বব্যাংকে শফিউল আলম, নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব আনোয়ারুল ইসলাম
চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ৩টি ট্রাক্টর নিয়ে ইক্ষুখামারের জমি চাষ করার সময় হঠাত্ করে সাঁওতালদের কিছু লোক এসে চালকদের মারপিট করে। এ সময় তাদের মারপিটে দুই ট্রাক্টর চালক পালিয়ে যান। আহত হন নুরুল ইসলাম নামের অপর এক টাক্টর চালক। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম মেহেদী হাসান বলেন, চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও সাঁওতালরা উভয়পক্ষই তার কাছে মারপিটের অভিযোগ করছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়কে বুঝিয়ে জমি থেকে ট্রাক্টর তুলে দেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চলতি দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাজির হোসেন বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। এ মুহূর্তে সেখানকার কোনো বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত দিতে পারি না।
ইত্তেফাক/এমআরএম
