করতোয়ায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ তিন: বাবা-মেয়ের লাশ উদ্ধার

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৩২

বগুড়ার শেরপুরে করতোয়া নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন তিনজন। তাদের মধ্যে থেকে ডুবে যাওয়া বাবা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ আরেক শিশুর সন্ধান এখনও মেলেনি। তবে ওই শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার দুপুর একটার দিকে উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বহমান করতোয়া নদীর চন্ডিজান কালিবাড়ী ঘাট এলাকায় নদী পারাপারের সময় স্রোতের টানে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন তারা।

তাঁরা হলেন, উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের চন্ডিজান গ্রামের বজেন্দ্র নাথ পালের ছেলে চন্দন কুমার পাল (৪০), তার মেয়ে কিরণ মালা (৫)। এছাড়া নদীতে নিখোঁজ রয়েছে তারই ভাতিজা একইগ্রামের উজ্জল কুমার পালের ছেলে অরুপ কুমার পাল ওরফে ব্রজ কুমার (৬)।

শেরপুর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা মো. রতন হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে চন্দন কুমার পাল তার মেয়ে ও ভাতিজাকে নিয়ে করতোয়া নদীতে মাছ ধরতে যান। এক পর্যায়ে তাদের কোলে নিয়ে নদীর এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাচ্ছিলেন। এ সময় নদীর পানির স্রোতে মেয়ে কিরণ মালা পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে বাবা চন্দন ও তার ভাতিজা অরুপও পানিতে তলিয়ে যান।

পরে স্থানীয় লোকজনের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে বেলা দেড়টার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে নিখোঁজ তিনজনের মধ্যে বাবা-মেয়েকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া নিখোঁজ আরেক শিশুকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদলকে খবর দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ডুবুরিদল রাজশাহী থেকে শেরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলেও জানান এই স্টেশন কর্মকর্তা। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে এমপির গাড়ি চালককে গুলি করে হত্যা

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, করতোয়া নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ তিনজনের মধ্যে দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে সব ধরণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও দাবি করেন এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

ইত্তেফাক/নূহু