ডিজিটাল প্লাটফর্মে কন্টেন্টের নামে চলছে লাগামহীন অশ্লীলতা!

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৯, ২০:০৪

নাটক, সিনেমা কিংবা গান—সবই আজ কন্টেন্ট হয়ে উঠেছে অনেকের কাছেই। তাই এখন আলাদা সেন্সর নীতিমালা বা চ্যানেলের প্রিভিউ কমিটি কিংবা গানের ক্ষেত্রে গুণী সুরকারদের রেফারেন্স এসবের তোয়াক্কা বা প্রয়োজন নেই। নেই প্রয়োজন দেশ কিংবা সমাজ সচেতনতার নূন্যতম মূল্যবোধ। ভিউ আর অর্থমূল্যের লোভে ইউটিউব, ফেসবুকে অগণিত মানহীন অশ্লীল নাটক, মিউজিক ভিডিও এবং চলচ্চিত্রের বিশেষ আনসেন্সরড ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ছে ডিজিটাল একাধিক প্লাটফর্মে। একদল বিকৃত রুচির নির্মাতারা ওয়েব সিরিজ কিংবা শর্টফিল্মের নামে নিজের মেধাহীন কুরুচিপূর্ণ ডায়লগ ও জনপ্রিয় শিল্পীদের কদার্য ভঙ্গির অভিনয় নিয়ে সুরসুরি দিয়ে চলছে। গতবছর ‘আবাসিক হোটেল’ নামের একটি ওয়েব সিরিজ নিয়ে অশ্লীলতার চূড়ান্ত সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু এর পরবর্তীতে এ সবকিছুকে ছাড়িয়ে ভয়াবহ অশ্লীল সংলাপ ও দৃশ্যের নাটক আরো বেড়েছে। সম্প্রতি শামীম হাসান সরকার ও জিয়াউল হক পলাশ অভিনীত একটি নাটকের ট্রেলর নিয়ে অধিকাংশ সিনিয়র শিল্পীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সঙ্গত কারণেই প্রতিবেদনের সঙ্গে বিতর্কিত নাটকের নামটি উল্লেখ করা হলো না। এ নিয়ে অভিনেতা-নির্মাতা জিয়াউল হক পলাশকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও খুবই বিব্রত। কারণ এই কাজটি ১ বছর আগে করেছি, যখন অভিনয় বুঝতাম না। স্রেফ ফানের বশে করে ফেলেছি। তাই আমরা ওই ডিরেক্টরকে গতকাল ডেকেছি। তার সঙ্গে বসে নাটকটির পরিমার্জনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

কিন্তু এমন উদাহরণ আরো অনেক রয়েছে, যেখানে জনপ্রিয় শিল্পীরা কাজ করছেন পেশাদারিত্বের দোহাই দিয়ে।

ডিজিটাল মিডিয়ার এই উন্মুক্ত স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে এখন জনপ্রিয় অভিনেতাদের সংলাপে উঠে আসছে ভয়াবহ অশ্রাব্য সংলাপ। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের জুরি সদস্য প্রখ্যাত অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘এ নিয়ে সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের কাউকেই সোচ্চার হতে দেখা দেখি না। বরং যিনি নেতার আসনে বসেন তার কাজ বেড়ে যায়। এই দায়িত্বহীনতা চললে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির কঠিন পতন দেখতে আর সময় লাগবে না।’

ডিজিটাল মিডিয়ার এই লাগামগীন অশ্লীলতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘ইউটিউব একটি স্বাধীন জায়গা, এখানে অশ্লীলতা পুঁজি করে বেশি ভিউয়ের নামে একটি প্রজন্মের চিন্তা-ভাবনা, রুচিকে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। এর পেছনে কোনো পরিকল্পনা আছে কি-না আমি জানি না। তবে এগুলো চলতে থাকলে সামনে আরো ভয়ঙ্কর দিন আসছে নিশ্চিত।’

এদিকে এসব অশ্লীলতার ভিড়ে গানের ভিডিও থেমে নেই। আধুনিকতার নামে একাধিক মিউজিক ভিডিও নির্মাতা ভিউ বাণিজ্যের আশায় তৈরি করছেন অশ্লীল মিউজিক ভিডিও। এ অবস্থায় স্ব স্ব সংগঠনের নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ সবচেয়ে জরুরি। কিন্তু আদতে সেসব জায়গা থেকে প্রতিবাদের কোনো নমুনা নেই!