রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ চায় বাংলাদেশ

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৯, ২১:৪৪

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এই আহ্বান জানান। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, চীন, জাপানসহ ঢাকায় অবস্থিত প্রায় ৬০টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রায় এক ঘণ্টা কূটনীতিকদের ব্রিফিং শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২২ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ার দায় মিয়ানমারের। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের আস্থার ঘাটতি দূর করতে না পারায় রোহিঙ্গারা ফিরতে রাজি হয়নি। কিন্তু মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তারা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চাইলেও বাংলাদেশ একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠাতে পারেনি। তাদের এই বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরা হয়।

তিনি বলেন, মিয়ানমার ৩ হাজার ৪৫০ জনের একটি তালিকা পাঠায়। ইউএনএইচসিআরের ব্যবস্থাপনায় ওই তালিকা অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের সাক্ষাত্কার গ্রহণ শুরু হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় মিয়ানমার এবং চীনের প্রতিনিধি সম্পৃক্ত ছিলেন। প্রত্যাবাসন শুরুতে সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু রোহিঙ্গারা ফিরতে রাজি হয়নি। কারণ, রাখাইনে তাদের ফেরার উপযোগী পরিবেশ তৈরি  করার যে দাবি মিয়ানমার করেছে, তাতে তাদের আস্থা নেই। উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণও মিয়ানমার দিতে পারেনি। বাংলাদেশ নীতিগতভাবে জতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে একমত যে, রোহিঙ্গাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের জোর করে পাঠানো হবে না।

কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ সংকট মোকাবিলায় তারা বাংলাদেশের পাশে আছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কেন শুরু করা যায়নি তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দেখেছে। এ সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এ অঞ্চলের জন্যই বড়ো ঝুঁকির কারণ হবে, সেটাও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কিছু এনজিওর ভূমিকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যদি কোনো এনজিও নিজ দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কোনো ভূমিকা রাখে, তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।