বিআরটিসি বাস বন্ধের দাবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সিলেটের চার জেলায় আবারও পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫৫

বিআরটিসির বাস সার্ভিস বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে ‘বাস মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’ আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সিলেট বিভাগের চার জেলায় আবারও বাস ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এদিকে বিআরটিসির বাসের সংখ্যা ও সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি বাস মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘটকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়েছে সাধারণ মানুষ।

জানা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের যাত্রীবাহী বাস নিম্নমানের হওয়া ও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে গত ৩ জুন বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালু করা হয়। শুরু থেকেই এই সার্ভিস বন্ধের দাবিতে বেসরকারি বাস মালিক ও শ্রমিকেরা বাস ধর্মঘট আহ্বান করে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এখন আবার তারা বিআরটিসির বাস বন্ধের দাবিতে ২ সেপ্টেম্বর থেকে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

এর আগে গত ৩ জুলাই সুনামগঞ্জে বিআরটিসির বাস সার্ভিসের উদ্বোধনী দিনে বেসরকারি বাস মালিক-শ্রমিকেরা ধর্মঘট ডেকে তাদের বাস সার্ভিস বন্ধ রাখেন। পরে বিকালে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ২৪ জুন থেকে একই দাবিতে আবার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় তারা। এই ঘোষণার পর সুনামগঞ্জ-সিলেটে এই ‘অযৌক্তিক’ ধর্মঘটের বিরুদ্ধে শুরু হয় সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ কর্মসূচি। ধর্মঘটের প্রতি জানানো হয় গণ-অনাস্থা। বরং সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে বিআরটিসির এসি বাস বৃদ্ধিসহ যাত্রীদের সুবিধার্থে আরো পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ ইত্তেফাককে বলেন, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে বিআরটিসি বাস চালু হওয়ায় সবাই খুশি। ধর্মঘটের নামে যাত্রীদের জিম্মি না করে বেসরকারি বাস মালিকদের ব্যবসায় কৌশলী হওয়া উচিত। সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাহারুল ইসলাম বলেন, ‘ভালো সেবা যারা দেবেন তাদের গাড়িতেই মানুষ চড়বে, এখানে কাউকে জিম্মি করা বা বাধা দেওয়া অন্যায়’।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, আমি দুই পক্ষকে নিয়ে মঙ্গলবার বসেছিলাম। বলেছি, বিআরটিসির বাস সার্ভিস বন্ধ করা যাবে না। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। উভয় পক্ষের কিছু প্রস্তাব নিয়ে বিআরটিসি ও বাস মালিক সমিতি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে জানাবে। আশাকরি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

সুনামগঞ্জ বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ মো. জুয়েল মিয়া বলেন, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে এখনকার বাসগুলো ভালো মানের। আঞ্চলিক সড়কে বিআরটিসির বাস চলাচলের কোনো নিয়ম নেই। তারপরও আমরা মেনেছি। কিন্তু বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ যেভাবে বাস চালানোর কথা সেটি তারা করেনি। তাই বাধ্য হয়ে আবার ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিআরটিসির সিলেট অঞ্চলের ব্যবস্থাপক মো. জুলফিকার আলী বলেন, মানুষের সেবার জন্য সরকার এটা চালু করেছে। বাসের ট্রিপ কমিয়ে দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। শুরুতে ছিল ছয়টি, এখন আছে চারটি। আগে বলেছে গাড়ি কমাও, এখন বলছে ট্রিপ কমাও।