জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি এখন শহরে

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৯, ২০:২৮

শফিকুর রহমান রয়েল

 

১৯৬০ সালে স্বাধীনতার সময়ে নাইজেরিয়ার লাগোস শহরের জনসংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৬৩ হাজার। আজ সে সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ, আর লাগোস রাজ্যের কথা বললে সেটি ২ কোটি ১০ লাখ। আয়তনের বিচারে এখন পর্যন্ত এটি দেশের সর্ববৃহত্ শহর হলেও নিরাপত্তার প্রশ্ন, গ্রামীণ দারিদ্র্য ও অধিকতর অর্থনৈতিক সুবিধাদির প্রত্যাশা লোকজনকে দেশ জুড়েই শহরগুলোতে তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ২০০৭ থেকে ২০১৭, এই দশকে নাইজেরিয়ার শহুরে বাসিন্দাদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৪১ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছে। চলতি বছরে এসে ১০ লাখ কিংবা তারও বেশি লোক থাকা শহরের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭। সেখানকার মোট ৮০টি শহরে ১ লাখ থেকে ১০ লাখ মানুষের বসবাস। আর ১০ হাজার থেকে ১ লাখ লোক থাকে নাইজেরিয়ার ২৪৮টি শহরে।

সংখ্যায় অনেক হলেও নাইজেরিয়ায় নগরায়ণের অধিকাংশই অপরিকল্পিত ও বিশৃঙ্খল। আফ্রিকার শহরবিষয়ক বিশ্ব ব্যাংকের এক রিপোর্ট অনুসারে, প্রকৃতপক্ষে অর্থনৈতিক কার্যক্রম, অবকাঠামো, গৃহায়ন ও বাণিজ্যিক কাঠামোর ঘনতার কারণে আফ্রিকার শহরগুলো জনাকীর্ণ অনুভূত হয় না। চাকরিস্থলের কাছাকাছি বিধিবদ্ধ গৃহায়নের ঘাটতি ও অধিকতর দূরে থেকেও সংযুক্ত থাকার পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় সেবা ও সুযোগ-সুবিধার আশা ছেড়ে দিয়েই সেখানকার লোকজন কর্মস্থলের কাছাকাছি জরাজীর্ণ ও আবদ্ধ বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছে। নাইজেরিয়ার শহরগুলোয় জীবনের বাস্তবতা খুবই কঠিন। লাগোসে প্রতি তিন জনের দুজনই বস্তিতে বসবাস করে। নলযুক্ত পানি পান করতে পারে মাত্র ১০ শতাংশ লোক। তাতেও পলি থাকে বলে না ছেঁকে খাওয়ার উপায় নেই, এক কথায় পানের জন্য অনিরাপদ। নিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত ফ্লাশিং টয়লেটের সুবিধা ভোগ করে লাগোসের শহুরে খানাগুলোর  মাত্র ৬ শতাংশ। তবে লাগোসে কোনো ভিখারি চোখ পড়ে না। মনে হয় ব্যস্ততম শহরে কাজ করা ফেরিওয়ালারাই মারাত্মক ট্রাফিক জ্যাম লাগিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট। ঝাড়ু, বালতি জুজু সামগ্রী থেকে শুরু করে শেক্সপিয়রের রচনাসমগ্র পাওয়া যায় ফেরিওয়ালাদের কাছে। তাদের সিনেমা সারা আফ্রিকা তো বটেই, দুনিয়া জুড়েই বেশ পরিচিত। নাইজেরিয়ার লাগোস নামক প্রাণকেন্দ্রে টেলিযোগাযোগ ও সেলফোনের ব্যবহার বলতে গেলে যত্রতত্র। নাইজেরিয়ান কমিউনিকেশন কমিশন জানিয়েছে, এ বছরের মার্চ মাসে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১১৬ মিলিয়ন, যা কিনা দেশের অর্ধেক জনসংখ্যারও বেশি। গ্রাহকদের কাছে সবচেয়ে আধুনিক আর্থিক ও অন্যান্য পরিষেবা সরবরাহ করা হয় ইবাইস-ঔধগোস কোরডোর ও আবুজাসহ অন্যান্য কিছু অতিগুরুত্বপূর্ণ স্থানে।   —ব্লুমবার্গ অনুসরণে