আসবাবে বাড়ছে ফুলমিস্ত্রির চাহিদা

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৯, ২০:৫০

কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা

কাঠের আসবাবপত্র বা কাঠের ফার্নিচার কম-বেশি সবার প্রিয়।  যারা কাঠের ওপর কারুকাজ করে থাকেন তাদের সাধারণভাবে ‘ফুলমিস্ত্রি’ বলা হয়ে থাকে। এখন খাট, পালং, বক্সখাট, সোফা, কাঠের আলমারি, ওয়ারড্রব, চেয়ার, টেবিল, আলনা এমনকি কাঠের তৈরি টুল বা পিঁড়িতেও কারুকাজ করা হয়। আর যে যতবেশি নিখুঁত কারুকাজ করতে পারেন তার কদরও ততবেশি থাকে।

কাপ্তাই উপজেলাসহ আশপাশের অনেক উপজেলায় বিপুলসংখ্যক ফার্নিচারের দোকান রয়েছে। এসব ফার্নিচারের দোকানে প্রতিদিন বেশ কয়েক জন মিস্ত্রি দিনরাত কাঠের আসবাবপত্র তৈরি করে থাকেন। আর প্রতিটি আসবাবপত্রে অবশ্যই কারুকাজ থাকতে হবে। সম্প্রতি ইসমাইল হোসেন নামক এক ফার্নিচার ব্যবসায়ী এই প্রতিনিধিকে বলেন, যারা আসবাবপত্রে কারুকাজ করেন তাদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তাদের বেশি পারিশ্রমিক দিয়ে দোকানে রাখতে হয়।

কাঠের ওপর সাধারণত কী ধরনের কারুকাজ করা হয় জানতে চাইলে ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. সোলায়মান জানান, কাস্টমাররা যা পছন্দ করেন তাই কাঠের ওপর খোদাই করতে হয়। অনেক কাস্টমার আসবাবপত্রে ফুল-চান, কেউ চান-প্রজাপতি, কেউ ময়ূর, কেউ শাপলা আবার অনেকে দোয়েল, কবুতর, হরিণ, সিংহ এমন কি বাঘের মাথাও আসবাবপত্রে খোদাই করতে চান। এক জন দক্ষ ফুলমিস্ত্রি যে কোনো কাঠের ওপর বা যে কোনো আসবাবপত্রের ওপর গ্রাহকের চাহিদানুযায়ী খোদাই করতে পারেন। এক জন দক্ষ ফুলমিস্ত্রির বেতন ১ লাখ টাকাও হতে পারে বলে জানা গেছে।

ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. মনছুর জানান, বর্তমানে দক্ষ ফুলমিস্ত্রি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। কারণ নতুন করে কেউ ফুলমিস্ত্রির কাজ শিখতে চাচ্ছেন না। অনেকে এই কাজকে তুচ্ছ কাজ হিসেবে বিবেচনা করেন। ফুলমিস্ত্রি বা যারা কাঠের কাজ করে থাকেন সমাজে তাদের খুব বেশি কদর নেই। নিজেরা ফুলমিস্ত্রির কাজ করলেও তাদের সন্তানদের এই কাজ শেখাতে  কেউ আগ্রহী হন না। যে কারণে চাহিদা থাকলেও দক্ষ ফুলমিস্ত্রি পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে একাধিক ফার্নিচার ব্যবসায়ী এই প্রতিনিধিকে জানান।