রাজশাহী ওয়াসার পানিতে ময়লা দুর্গন্ধ

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৯, ২১:১১

 স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

সুপেয় পানি পানের আশায় ওয়াসা (ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথরিটি) প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছিল রাজশাহীবাসী। সরকার দাবি পূরণ করেছে। করপোরেশন থেকে পৃথক কার্যক্রম শুরু করলেও রাজশাহী ওয়াসা দীর্ঘদিনেও নগরবাসীর সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ করতে পারেনি। ফলে রাজশাহী ওয়াসায় স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে বলে মনে করেন গ্রাহক-অধিকাংশ নগরবাসী।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি মানসম্মত নয়। কোনো কোনো সময় এত নোংরা পানি সরবরাহ করা হয়, যা ব্যবহারের অনুপযোগী। খাওয়া তো দূরে থাক হাতে নিতেও রুচিতে বাধে। হলুদ বা কালো এবং দুর্গন্ধযুক্ত ঐ ময়লা পানি নিয়ে গ্রাহকের অভিযোগের শেষ নেই।

নগরীর মহিষবাথান এলাকার অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক শামীম আরা বলেন, ওয়াসার পানি ব্যবহারের একেবারে অনুপযোগী। ঐ পানি পান করা দূরে থাক ব্যবহারও করা যায় না। কোনো কোনো সময় কালো শেওলা পাওয়া যায় ওয়াসার পানিতে। বিষয়টি ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেন না।

নগরীর কুমারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহন কর্মকার বলেন, ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি পান করার মতো না। ময়লা ছাড়াও পানিতে প্রচুর আয়রন রয়েছে। ওয়াসার পানি সংরক্ষণ করলে লাল রং ধারণ করে। রাণীনগর এলাকার গৃহবধূ সাঈদা রায়হানা বলেন, ওয়াসার পানি কেবল রান্নাবান্না ও ধোয়া-মোছার কাজে লাগে। ওয়াসার পানিতে গোসল করাও যায় না। একটানা ১০ দিন গোসল করলে চুল নষ্ট হয়ে যায়। মানুষ নিরুপায় হয়েই ঐ পানি ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছে।

ওয়াসা কর্তৃপক্ষের দাবি, পানি সরবরাহ লাইনের ত্রুটির কারণে কোনো কোনো এলাকায় ঘোলা বা গন্ধযুক্ত পানি পেয়ে থাকেন গ্রাহকরা। খোঁজ নিয়ে এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। এগুলো ড্রেনের ময়লা। ওয়াসা সূত্রের দাবি, পানির সরবরাহ পাইপ স্থাপনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই পাইপগুলো পরিষ্কার না করায় এবং স্থানে স্থানে লিকেজের কারণে এই ধরনের সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শোধন ছাড়াই মহানগরবাসীকে কথিত সুপেয় পানি সরবরাহ করছে রাজশাহী ওয়াসা। সূত্র মতে, এই পানির ৯৬ শতাংশ জোগান আসছে ভূ-গর্ভ থেকে। এছাড়া নগরীতে পাঁচটি পানি শোধনাগার রয়েছে। পদ্মার পানি নির্ভর শ্যামপুরে একমাত্র ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগারটি সচল থাকে বছরে চার মাস। বাকি চারটি ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার চালুর কিছুদিন পর থেকেই বিকল। এ অবস্থায় ৯৬টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে সরাসরি ভূ-গর্ভস্থ পানি গ্রাহককে সরবরাহ করছে ওয়াসা।

সূত্র জানায়, ৫ লাখ ৫১ হাজার ৬৩০ অধিবাসীর এই শহরে ওয়াসার পানি সরবরাহের আওতায় এসেছে ৪ লাখ ৪ হাজার ২১০ জন। শতকরা হিসাবে পানি ভোগীর আওতায় ৭৩ দশমিক ২৮ শতাংশ। ওয়াসার গ্রাহক ৪২ হাজার ৬৮০। সবমিলে প্রতিদিন পানির চাহিদা ১১ দশমিক ৩৩ কোটি লিটার। কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে ৭ দশমিক ৭৮ কোটি লিটার পানি। এর ৯৬ শতাংশই আসছে ভূ-গর্ভ থেকে। জনপ্রতি দৈনিক ১৯০ দশমিক ৭৪ লিটার পানি সরবরাহ করা হলেও ব্যবহার হচ্ছে ১২৬ দশমিক ৩০ লিটার। নগরজুড়ে ওয়াসার পানি সরবরাহ লাইন রয়েছে ৭১২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। দৈনিক ৫ দশমিক ১০ কোটি লিটার পানি বিক্রি করছে ওয়াসা। সংস্থাটি দিনে ১২ ঘণ্টা পানি সরবরাহ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় রাজশাহীতে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৪ হাজার ৬২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পানি শোধন করে রাজশাহী নগরী ও এর আশপাশের পৌর এলাকায় সরবরাহ হবে।

তথ্য অনুযায়ী এই শোধনাগারে প্রতিদিন ২০ কোটি লিটার পানি শোধন হবে। পরিশোধিত পানি সরবরাহে গড়ে তোলা হবে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এর মধ্যে প্রধান সরবরাহ লাইন থাকবে ২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার। এছাড়া ৪৮ কিলোমিটার প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি সরবরাহ লাইনও থাকবে। ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ হবে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে। এরই মধ্যে ৫৩ দশমিক ৩১ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানা গেছে।