মতলবে ইমামের কক্ষ থেকে তিন শিশুর লাশ উদ্ধার

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৯, ২১:৪৪

চাঁদপুরের মতলব পৌরসভার পূর্ব কলাদী জামে মসজিদের ইমামের কক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর আব্দুল্লাহ আল নোমান (৫) রিফাত হোসেন (১৫) ও ইব্রাহিম খলিল (১২) নামে তিন শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে আব্দুল্লাহ আল নোমান ইমামের ছেলে। ইব্রাহিম ও রিফাত মতলব পৌরসভার ভাঙ্গাপাড় মাদরাসার ছাত্র। লাশ তিনটি ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঐদিন দুপুরে ঐ মসজিদের ইমাম তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল নোমানকে রেখে নামাজ পড়াতে যান। এ সময় ঐ শিশুর সঙ্গে আরো দুই শিশু প্রবেশ করে ইমামের রুমে। নামাজ শেষে ইমাম নিজের রুমের দরজা ভেতর থেকে আটকানো অবস্থায় দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পর দরজা না খোলায় মুসল্লি শাহীন সরকার, সাইফুল, সুমন মোস্তফাসহ একাধিক ব্যক্তি দরজা ভেঙে ইমাম ও অন্য মুসল্লিদের উপস্থিতিতে কক্ষে প্রবেশ করেন এবং তিন শিশুকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের উদ্ধার করে মতলব হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।

ইমাম জামাল উদ্দিন জানান, জুমার নামাজের আগে বেলা পৌনে ১টার সময় আমি বয়ান ও খুতবার জন্য মিম্বরের দিকে যাই। নামাজ পড়ানো শেষে মসজিদে মিলাদ পড়িয়ে নিজের কক্ষে ফিরে আসি। ঐ সময় আমার রুমের দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখে অনেক ধাক্কাধাক্কি করি। পরে মুসল্লিদের সহায়তায় দরজা ভেঙে দেখি আমার ছেলেসহ অপর দুই শিশু—অচেতন হয়ে বিছানায় পড়ে আছে।

এলাকাবাসী জানান, দুই মাস পূর্বে ঐ মসজিদের ইমাম         হিসেবে মাওলানা জামাল উদ্দিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই থেকে তার শিশু সন্তানসহ আব্দুল্লাহ আল নোমান ঐ কক্ষে বসবাস করতেন। পরে এক মাস পূর্বে মসজিদ সংলগ্ন মুক্তা ভিলায় বাসা ভাড়া নেন। তাদের বাড়ি বরগুনা জেলার কালাই মুদাফাত গ্রামে। এর আগে তিনি চাঁদপুর শহরের কোড়ালিয়া রোডে জামে মসজিদে ইমামতি করতেন। এদিকে মৃত রিফাত ও ইব্রাহিম মতলব পৌরসভার ভাঙ্গাপাড় মাদরাসার ৪র্থ ও ৩য় শ্রেণির ছাত্র। রিফাতের বাবা মতলব পৌরসভার নলুয়া গ্রামের জসিম উদ্দিন ও ইব্রাহিম খলিলের বাড়ি নারায়ণপুর ইউনিয়নের নাটশাল গ্রামে, পিতা জামাল উদ্দিন প্রধান।

মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে এম মাহাবুর রহমান বলেন, মৃত ঐ তিন শিশুর মুখ থেকে শুধু ফেনা বের হচ্ছিল। ফুড পয়জনিং বা অন্য কোনো কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে কি না এ ব্যাপারে এখনই কিছু বলতে পারছি না।  মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার আইচ বলেন, ঘটনাস্থল ও কক্ষটি পর্যবেক্ষণ করেছি। বিষয়টি তদন্তাধীন। এ মুহূর্তে কিছুই বলা যাচ্ছে না।  

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম বলেন, এখনো কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফুড পয়জনিং বা অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হতে পারে। তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের পরে কারণ জানা যেতে পারে।