শ্রীনগরে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করার সময় গাড়ি, পিস্তলসহ দুই জনকে আটক করে গণধোলাই দেওয়া হয়েছে। পরে রনি তালুকদার ও রাসেল নামে দুই অপহরণকারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তবে তাদের তিন সঙ্গী পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বাঘড়া ব্যাপারীবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রনি ও রাসেলের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকায়। রনির বাবার নাম সিরাজ আহমেদ ও রাসেলের বাবার নাম আবু বক্কর সিদ্দিক। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি একটি খেলনা পিস্তল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আল-আমিন বাজারের অথৈ স্বর্ণ শিল্পালয়ের মালিক বিশ্বজিত্ সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে রিকশাযোগে তার বাড়ি বাঘড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। বিশ্বজিতের রিকশাটি বাঘড়া স্বরূপচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে মাইক্রোবাস নিয়ে সেখানে অপেক্ষায় থাকা একদল অপহরণকারী বিশ্বজিেক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে ঢাকা-দোহার সড়কের দিকে রওনা হয়। দ্রুতগতির মাইক্রোবাসটি আল-আমিন বাজারের মোড়ে এসে একটি অটোরিকশা ও একটি ব্যাটারিচালিত রিকশাকে ধাক্কা দিয়ে সামনে আগাতে গেলে স্থানীয় লোকজন ব্যারিকেড তৈরি করে। এ সময় মাইক্রোবাসটি পেছন দিকে মোড় নিলে স্থানীয়রা মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়িটিকে ধাওয়া করে। পরে মাইক্রোবাসটি বাঘড়া ব্যাপারীবাড়ির সামনে এসে আরেকটি ব্যারিকেডের সামনে পড়লে পাঁচ জনের মধ্যে তিন অপহরণকারী গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা মাইক্রোবাস, পিস্তলসহ রনি ও রাসেল নামে দুই অপহরণকারীকে মারধর করে।
শ্রীনগর থানার পুলিশ ও র্যাব-১১-এর ভাগ্যকুল ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনতার হাত থেকে অপহরণকারীদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
স্থানীয়রা জানায়, বিশ্বজিতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে স্থানীয় একটি মহলের বিরোধ চলে আসছিল। তবে এ ঘটনায় বিশ্বজিতের সেই বিরোধী পক্ষ, নাকি অন্য কেউ জড়িত তা দ্রুত উদ্ঘাটন করে স্থানীয়রা তাদের শাস্তির দাবি জানান।
শ্রীনগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হেলালউদ্দিন জানান, মাইক্রোবাসটি কামারগাঁও এলাকার পারভেজের কাছ থেকে সুমন নামে এক চালক ভাড়া নিয়েছিল। উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি খেলনা পিস্তল। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকি অপহরণকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
