বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গুম-খুনের জন্য আওয়ামী লীগ সরকার একদিন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হবে। তারা বিচার এড়াতে পারবে না। আশা করি সুষ্ঠু বিচার একদিন হবেই। গতকাল বিকালে বনানীতে নিখোঁজ সাবেক এমপি এম ইলিয়াস আলীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ’এনফোর্স ডিজএপিয়ারেন্স-’ এটা সম্পূর্ণরূপে মানবতাবিরোধী একটা অপরাধ। জাতিসংঘের এই ক্রাইম এগেনেস্ট হিউমিনিটির জন্য এই সরকার একদিন অভিযুক্ত হবে। একদিন না একদিন এই মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্যে বিচার হবেই। নিখোঁজ ব্যক্তিরা তাদের পরিবারের কাছে ফিরে আসবে। আমরা আশা করবো, ভবিষ্যতে এর একটা সুষ্ঠু বিচার হবে।
বিকালে বিএনপি মহাসচিব ইলিয়াস আলীর বাসায় যান। তিনি তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদী ও তার বড়ো ছেলে আবরার ইলিয়াসের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন। ফখরুল বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরামর্শ দিয়েছেন যে, আজকের এই গুম দিবসে আমাদের দলের যারা গুম হয়েছেন যথাসম্ভব তাদের বাসায় যাওয়ার চেষ্টা যেন করি। আমি ইলিয়াস আলীর বাসাসহ চারটি বাসায় গিয়েছি। অন্য নেতৃবৃন্দ ঢাকা শহরে যারা আছেন তাদের বাসায় গিয়েছেন। গুম হওয়া পরিবারের সাথে আমরা সবসময় যোগাযোগ রাখি, চেষ্টা করি তাদের পাশে দাঁড়ানোর।
গুম হওয়া পরিবারের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে আমি দক্ষিণখানে গিয়েছিলাম ছাত্র নেতা তারিকুল ইসলাম ঝুন্টুর বাসায়। তার মা বলছিলেন, আমর এই ছেলেটা ছিল সবচেয়ে ভালো ছেলে, অনার্সে ফাস্ট ক্লাস পেয়েছিল। মা বলছিলেন যে, তাকে সালাম না করে কোনোদিন ঘুমোতে যেতো না। সেই ছেলে গুম হয়ে গেছে। নিজামুদ্দিন মুন্নার বাসায় গিয়েছিলাম। অনেক কষ্ট করে এই ছেলেটি বিএ পাশ করেছিল। তার বাবা এমন কোনো জায়গা নাই যাননি, ভারতেও গেছেন, বুহ জায়গায় গিয়ে ছেলেকে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত অসুখ হয়ে বাবা মারা গেছেন। ইলিয়াস আলী, নিজামুদ্দিন মুন্না ও তারিকুল ইসলাম ঝন্টুর বাসা ছাড়াও নাখালপাড়ায় সাজেদুল ইসলাম সুমনের বাসায়ও যান মহাসচিব। বিকালে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বংশালে মো. সোহেল, জহিরুল ইসলাম জহির, পারভেজ হোসেন, মো. চঞ্চল, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সূত্রাপুরের খালিদ হোসেন সোহেল, সেলিম রেজা পিন্টু, সম্রাট মোল্লা এবং সেলিমা রহমান সবুজবাগে মাহবুব হাসান সুজন ও কাজী ফরহাদ হোসেনের বাসায় গিয়ে তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর নেন। গুম হওয়া পরিবারদের জন্য নেতৃবৃন্দ তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ফলের ঝুড়ি নিয়ে যান।
