উলিপুরে বন্যার পর খরার কবলে পড়েছেন কৃষকরা। বন্যার ধকল কাটিয়ে রোপা আমন চারা লাগালেও পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে আমনখেত। চারা ও পানির অভাবে অনেক কৃষক এখন রোপা আমন চারা লাগাতে পারেনি। অনেকে সেচ দিয়ে আমনখেত রক্ষার চেষ্টা করছেন। আবার অনেকেই সেচ দিয়ে আমন চারা রোপণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে অনেক কৃষক জমি পতিত রেখে দিয়েছেন। বাজারে ধানের মূল্য কম থাকায় ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে উপজেলায় ২৩ হাজার ৭ শত হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাতের ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু চারা সংকট ও পানির অভাবে এখনো ১ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চারা লাগানো সম্ভব হয়নি। এদিকে হাইব্রিড জাতের ৭৫০ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৭৭৯ মেট্রিক টন ধান উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চারা লাগানো হয়েছে ৭৫০ হেক্টর জমিতে। উফশী জাতের ১৮ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে ৫২ হাজার ৬৭৮ মেট্রিক টন ধান উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চারা লাগানো হয়েছে ১৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। স্থানীয় জাতের ৪ হাজার ২৪৮ হেক্টর জমিতে ৭ হাজার ৫৬১ মেট্রিক টন ধান উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চারা লাগানো হয়েছে ৩ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে। ফলে চলতি মৌসুমে ধান উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আরো পড়ুন: ‘কঠিন অবস্থাতেও আমি লড়াই করতে শিখেছি’
বুধবার সকালে উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নের নাওড়া গ্রামের গিয়ে দেখা যায়, কৃষক আবুল কাশেম খেতের চারা গাছ বাঁচাতে স্যালোমেশিন দিয়ে সেচ দিচ্ছে। এ সময় কথা হলে তিনি জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর জমিতে রোপা আমন চারা লাগাই। কিন্তু দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় খেত পানির অভাবে শুকিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে সেচ দিচ্ছি। ধানের দাম কম হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, শুধু গবাদিপশু বাঁচানোর জন্য ধান চাষ করছি। উত্পাদন খরচ না উঠলেও খড় তো পাওয়া যাবে।
এদিকে উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই জানান, জমিতে ব্রি-৪৮ (ভাদাই) জাতের ধান চাষ করেছিলাম। বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করে বাধ্য হয়ে সেচ দিয়ে চারা লাগাইলাম। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, বন্যার কারণে অনেক বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চারা সরবরাহের জন্য উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১৪ একর জমিতে কমিউনিটি বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যা এক সপ্তাহের মধ্যে বিনামূল্যে ৮৪০ জন কৃষকের মাঝে সরবরাহ করা হবে।
ইত্তেফাক/বিএএফ
