পতাকার রঙে বসছে নাম ও জার্সি নম্বর

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৫০

জান-ই-আলম

ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে চলমান অ্যাশেজ দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটেও খেলোয়াড়দের জার্সিতে নাম ও জার্সি নম্বরের প্রচলন শুরু হয় ক্রিকেট দুনিয়ায়। জো রুট, স্টিভেন স্মিথদের জার্সির পেছনে নাম ও জার্সি নম্বর শোভা পাচ্ছে এখন। অ্যাশেজের পর শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার টেস্ট সিরিজেও একই চিত্র দেখা গেছে। ক্যারিবিয়ানে ভারত ও স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট সিরিজেও বিরাট কোহলি-জ্যাসন হোল্ডারদের জার্সিতে নাম ও জার্সি নম্বর দেখা যাচ্ছে।

ঠিক অ্যাশেজের পরই অন্য দলগুলো এটি অনুসরণ করছে তা নয়। ওয়ানডে, টি-২০ এর মতো টেস্ট তথা সাদা পোশাকের ক্রিকেটেও খেলোয়াড়দের পোশাকে নাম ও জার্সি নম্বর ব্যবহার করার নতুন নিয়ম করে দিয়েছে আইসিসি। সম্প্রতি আইসিসির করা এই নিয়মটা কার্যকর করেছে দলগুলো।

কয়েক দিন পর চট্টগ্রামের সাগরিকায় শুরু হতে চলা বাংলাদেশ-আফগানিস্তান একমাত্র টেস্টেও এই নিয়মের প্রয়োগ দেখা যাবে। সাকিব আল হাসান, রশিদ খানদের জার্সিতেও নাম, জার্সি নম্বর উল্লেখ থাকবে।

গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে বিসিবি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, টেস্টের জন্য বাংলাদেশ দলের জার্সি প্রস্তুত হয়ে গেছে। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগে সাকিব-মুশফিকদের জার্সি ও ট্রাভেল কিট সাজানো ছিল। সবার উপরে ছিল অধিনায়ক সাকিবের জার্সি। সেখানেই দেখা গেল, নতুন জার্সিতে ক্রিকেটারদের নাম ও জার্সি নম্বর উল্লেখ করা আছে।

গতকাল বিসিবিতে রাখা জার্সিগুলোতে দেখা গেছে, সাকিবদের সাদা জার্সির পেছনে দেশের পতাকার রঙে বসানো হয়েছে নাম ও জার্সি নম্বর। সাদার মাঝে সবুজ রঙে লেখা হয়েছে নাম ও জার্সি নম্বর। বাকি দুই ফরম্যাটের মতো টেস্টেও মুশফিকের জার্সিতে প্রিয় ১৫ নম্বরই শোভা পাবে। সাকিব ৭৫, সৌম্য ৫৯, লিটন দাস ১৬, মাহমুদউল্লাহ ৩০, তাসকিন ০৩ নম্বরই পাচ্ছেন।

বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের ম্যানেজার সাব্বির খান গতকাল জানিয়েছেন, আইসিসি সম্প্রতি খেলোয়াড়দের পোশাক সংক্রান্ত বিধিতে টেস্টেও জার্সি নম্বর ও নাম ব্যবহারের নিয়ম করে দিয়েছে। এবার আসন্ন টেস্টে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের জার্সিতেও নাম এবং জার্সি নম্বর উল্লেখ থাকবে।

জার্সি নম্বর ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভিন্ন পথে হাঁটছে না বাংলাদেশ। সীমিত ওভারের দুই ফরম্যাটে ক্রিকেটাররা নিজেদের পছন্দের যেই নম্বর ব্যবহার করেন সেটিই থাকছে টেস্ট ক্রিকেটে। যদিও টেস্টে জার্সি নম্বর প্রবর্তনের আগে বিষয়টি নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেছে বিসিবি। সব ধরনের ঝামেলা এড়াতে ওয়ানডে, টি-২০ এর মতোই জার্সি নম্বর ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। অর্থাত্ তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জার্সি নম্বর একই থাকছে।

টেস্টে এখন পর্যন্ত ১১৪টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সাদা পোশাকে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হয়েছে ৯৫ জন ক্রিকেটারের। বিসিবির চিন্তায় এসেছিল, অভিষেকের নম্বর হিসাব করে টেস্টে জার্সি নম্বর প্রবর্তনের। কিন্তু সেখানে নানারকম বিতর্ক দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা দেখছে বিসিবি। কারণ ২০০০ সালে প্রথম টেস্টে ১১ জনের অভিষেক হয়েছিল। সেক্ষেত্রে দেশের প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার কে হবেন, সেটি নির্ধারণে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে।

কারো ভাবনা প্রথম টেস্টের অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় হবেন দেশের প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার। আবার কারো কাছে মনে হয়েছে, ওপেনারদের দিয়েই নম্বর চালু হওয়া উচিত। কারো দাবিটা এমন, অভিষেক টেস্টে বাংলাদেশের প্লেয়ার তালিকা ধরে জার্সি নম্বর তৈরি করা হোক।

 এই পদ্ধতিতেও অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার মনক্ষুণ্ন হচ্ছেন, তাদের নাম পেছনে পড়ে যাওয়ায়। তাছাড়া ম্যাচের প্লেয়ার তালিকায় অধিনায়কের নাম আগে থাকে না বেশিরভাগ সময়ই। আবার শুরু থেকে সব টেস্ট ম্যাচের প্লেয়ার তালিকাও বিসিবির কাছে সংরক্ষণ করা নেই। আবার একই টেস্টে চার জনের অভিষেকও হয়েছে। সেক্ষেত্রে কোন ক্রিকেটারকে এগিয়ে রাখা হবে সেটি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হবে।

তাই নির্ভেজাল থাকতে বিসিবি ওয়ানডে, টি-২০ এর জার্সি নম্বর টেস্ট ক্রিকেটে ব্যবহারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত করেছে।