বিশ্বপ্রবাহ ডেস্ক
কাশ্মীরে উত্তেজনা কমাতে নয়াদিল্লি কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, ভারতের কাছে তা জানতে চাইবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প আগেই বলেছেন, ভারতের সঙ্গে কাশ্মীর নিয়ে কথা বলবেন তিনি। কাশ্মীরের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পাশাপাশি উপত্যকায় মানবাধিকার রক্ষার জন্য ভারত সরকার কীভাবে সচেষ্ট, সেটাও জানতে চাওয়া হবে।
ভারতের গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, গত দুই সপ্তাহে তিন বার কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোবে, তা আঁচ করতে পারছেন না কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের গুরুত্ব যথেষ্ট। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘পাকিস্তানকে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পাকিস্তানি মাটি থেকে যে জঙ্গি সংগঠনগুলো বারবার ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতা চালিয়েছে, তাদের কার্যকলাপ বন্ধ করতেও বলা হয়েছে।’
দিল্লি বুঝতে পারছে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তা আদৌ সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু দুটি দেশকেই নিজেদের সঙ্গে রাখাটা এই মুহূর্তে মার্কিন নীতির বাধ্যবাধকতা। ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের ফলে কাশ্মীরের ভূ-কৌশলগত পরিস্থিতি কিছুটা হলেও পালটেছে। পাকিস্তানের পাখির চোখ এখন কাশ্মীর। ইমরান সরকার জানিয়েই দিয়েছে, কাশ্মীরের পরিবর্তিত পরিস্থিতির ফলে আফগানিস্তানে শান্তি প্রক্রিয়ার বিষয়টি লঘু বা প্রভাবিত হতে পারে। কিন্তু ট্রাম্প অক্টোবরেই আফগানিস্তান থেকে সেনা তুলতে চান। সে ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের পূর্ণ সহযোগিতা তার প্রয়োজন। তাই যেভাবে হোক, কাশ্মীর প্রশ্নে পাকিস্তানকে সংযত রাখতে চাইছেন তিনি। বস্তুত, কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই জাতিসংঘে সরব হতে শুরু করেছে পাকিস্তান। তাই কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তানকে কিছুটা খুশি রাখা যাবে এই হিসেবও ভাবনায় রাখছে হোয়াইট হাউস। আবার ভারতের বিশাল বাজারকে আমেরিকা কখনোই অবজ্ঞা করতে পারে না। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের আধিপত্য কিছুটা হলেও খর্ব করতে ভারতের পাশে থাকতে হবে ট্রাম্পকে।
