প্রধান আসামি তামিম সাত দিনের রিমান্ডে

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:০২

ভাণ্ডারিয়া উপজেলা সদরে গত শুক্রবার রাতে বখাটেদের উত্পাতে স্কুলছাত্রী রুকাইয়া আক্তার রুপার (১৫) আত্মহত্যার ঘটনায় বখাটে তামিম খানের (১৯) সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ভাণ্ডারিয়া থানার              ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মাকসুদুর রহমান জানান, রবিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাণ্ডারিয়া থানার এসআই মো. কাইয়ুম পিরোজপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তামিমের ১০ দিন রিমান্ড চাইলে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। 

গতকাল রবিবার দুপুরে রুপাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মেয়ের মৃত্যুতে বাবা রুহুল আমিন মুন্সি নির্বাক, মা শান্তা বেগম অঝোরে কাঁদছেন। বড়ো বোন নুসাইয়া আক্তার হিরাসহ অন্য ভাইবোনেরা শোকে কাতর।

স্থানীয় বন্দর সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী রুকাইয়া আক্তার রুপার আত্মহত্যার প্ররোচনায় তামিম খানসহ পাঁচ জনের নামে ও অজ্ঞাত তিন/চার জনকে আসামি করে মামলা করেছেন রুপার বাবা মো. রুহুল আমিন মুন্সি। দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত শনিবার রাতে ভাণ্ডারিয়া থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়।  মামলার অন্য আসামিরা হলো—দক্ষিণ ভাণ্ডারিয়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মো. রাইয়ান (২০), রুপার সহপাঠী মৃত বাবুল খানের মেয়ে ইরিন (১৮), সৈয়দ রফিকুল ইসলামের ছেলে সাজিদ ইশরাক (১৮) এবং ভাণ্ডারিয়া গ্রামের আলম জোমাদ্দারের ছেলে মো. অলি জোমাদ্দারসহ (২০) অজ্ঞাত আরো তিন/চার জন। মামলার ১ নম্বর আসামি তামিমকে গত শনিবার বিকালে উপজেলা শহরের তার প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে। সে উপজেলা সদরের মঞ্জু খানের ছেলে। রুপার একটি আপত্তিকর ছবি প্রধান আসামিসহ অন্য দুই-এক জন আসামির মোবাইল ফোনে পাওয়া গেছে।

এদিকে, রুপার আত্মহত্যার ঘটনার পর যাতে মামলা না হয় এবং দায়ী ব্যক্তিদের পুলিশ গ্রেফতার না করে সেজন্য স্থানীয় একাধিক প্রভাবশালী মহল পরোক্ষভাবে সচেষ্ট ছিল বলে জানা যায়। রুপার বাবা রুহুল আমিন মুন্সি গতকাল বিকালে মোবাইল ফোনে জানান, তার মেয়ের আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীদের বাঁচাতে একটি মহল নানাভাবে চক্রান্ত শুরু করায় তিনি ন্যায়বিচার পাবেন কি না সে বিষয়ে সন্দিহান।

পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, ঘটনা জানার পর থেকে পুলিশ খুবই তত্পর হয়ে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বাড়ি থেকে মূল আসামিকে গ্রেফতার করেছে। বাকি আসামিদেরও অবিলম্বে গ্রেফতারে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভাণ্ডারিয়াসহ এ জেলার আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বিরাজমান সুনাম বজায় রাখতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।

শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে রুপার মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে রাত ৯টায় ভাণ্ডরিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রুপার নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, জাতীয় পার্টি-জেপির উপজেলা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জেপি নেতা মশিউর রহমান মৃধা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফাইজুর রশিদ খশরু জোমাদ্দার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদার, বিএনপি নেতা মো. মহিউদ্দিন খান দীপুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতা, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাজায় শরিক হন।