নগরীর সব সৌন্দর্য যেন থেমে আছে হাসান মার্কেটের জীর্ণ ভবনে

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০৬

হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, সিলেট অফিস

পাহাড় টিলা নদী, চা-বাগান আর সবুজ বনানীবেষ্টিত সিলেট নগরী। প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্য্যমণ্ডিত পর্যটন সমৃদ্ধ এই নগরীতে ব্যাপক উন্নয়নকাজ এখন চলমান। প্রতিটি সড়কের পাশের স্থাপনা ভেঙেচুরে সড়ক হচ্ছে প্রশস্ত। সুষ্ঠু নিষ্কাশনের জন্য ছোটো ছোটো ড্রেনগুলোকে বড়ো করা হচ্ছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদে বৃষ্টির সময় নগরীর ছড়া-খালে এখন স্রোত বইতে শুরু করে। আধুনিক শিল্প-শৈলীতে তৈরি দালানকোঠা আর সিসিকের অব্যাহত উন্নয়নকাজে অতি প্রাচীন ও ঐতিহ্যমণ্ডিত নগরীতে সৌন্দের্যে পরশ লাগতে শুরু করেছে। কিন্তু সব সৌন্দর্য্য যেন থেমে আছে বন্দর বাজারের মাঝামাঝি অবস্থিত টিন সেডের তৈরি আলোচিত বিপণিবিতান হাসান মার্কেটের কারণে।

এদিকে ২২ বছর আগেই প্রবাসী অধ্যুষিত বিভাগীয় এই শহরে টিনশেডের এই বিপণিবিতানটি ভেঙে সেখানে বহুতলা ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। আজও যে এর প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে, তা নয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সিলেট পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলো, নগরীর মধ্যদিয়ে প্রবাহিত সুরমার অনেক জল গড়িয়েছে, বেসরকারি উদ্যোগে কত যে শপিংমল হলো কিন্তু হাসান মার্কেটটি যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। প্রতিবারই সিসিকের বাজেট সভায় হাসান মার্কেট ভেঙে আধুনিক বিপণিবিতান নির্মাণের কথা বলা হয়। কিন্তু এক রহস্যজনক কারণে তা আর এগুতে পারে না।

১৯৫৯ সালে সিলেট নগরীর প্রধানতম বাণিজ্যিক এলাকা বন্দরবাজারে নির্মিত হয় এই হাসান মার্কেট। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি মুছে দিতে স্মৃতিবিজড়িত গোবিন্দ পার্ককে ভেঙে নিজের নামে মার্কেট তৈরি করেন তত্কালীন জেলা প্রশাসক হাসান। ১৯৬৫ সাল থেকেই সিলেটের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে মার্কেটটি বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু মার্কেটের ভেতর বড়ই ঘিঞ্জি। ঠেলাঠেলি করে পথ চলতে হয়। সামান্য স্পেসে কেনাবেচা হয়। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মহাবিপদ। তার পরও কম দামে জিনিসের জন্য মানুষের ভিড় জমে। ব্যবসায়ী ও শহরবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জরাজীর্ণ মার্কেটটি ভেঙে পাঁচ তলাবিশিষ্ট মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে সিলেট পৌরসভা ১৯৯৩ সালে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে মার্কেট উন্নয়ন কমিটি ও সিটি কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। চূড়ান্ত করা হয় বহুতল ভবনের নকশাও। এরপর অজ্ঞাত কারণে তা আর এগোয়নি।

সূত্র জানায়, আবারও ৯৭ সালে হাসান মার্কেট ভেঙে বহুতল বিপণিবিতান নির্মাণের উদ্যোগ নেয় তত্কালীন পৌরসভা। এরপর কেটে গেল ২২ বছর।  এ লক্ষ্যে উভয়পক্ষের মধ্যে ১৪ দফা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয় তখন। চুক্তি অনুসারে মার্কেটের প্রায় ৩০০ ব্যবসায়ী নির্মিতব্য মার্কেটের দোকান বরাদ্দ পাওয়ার জন্য প্রথম কিস্তিতে ৩৫ হাজার টাকা করে দেন। এ সময় মার্কেট নির্মাণ মনিটরিং করার জন্য কমিটিও গঠন করা হয়। তখন কমিটির পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়—মার্কেটটি ১১ তলা নির্মাণ ও আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং সুবিধা রাখতে রাখতে হবে। কিন্তু মতদ্বৈধতায় আটকে যায় মার্কেট নির্মাণের কাজ।

 বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও প্রথম দফায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে হাসান মার্কেটের আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। এবার দ্বিতীয় মেয়াদেও দ্বিতীয় বাজেটে এসে এই মার্কেট নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। মার্কেটে প্রায় ২৮০টি দোকান রয়েছে। এসব দোকান থেকে প্রতি মাসে সিসিক প্রায় ৪ লাখ টাকা কর আদায় করে।