কাপ্তাইয়ে আসামবস্তি সেতুতে গর্ত!

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৮

কাপ্তাই-রাঙ্গামাটি-বড়াদম নতুন সড়কে কাপ্তাই লেকের উপর নির্মিত ৫৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের দৃষ্টিনন্দন আসামবস্তি সেতুর কাপ্তাই অংশে ৪টি বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। গর্তগুলো ঝুঁকিপূর্ণ আকার ধারণ করছে বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রায় ৬ মাস আগে গর্তের সৃষ্টি হলেও কোনো মহল সেতু সংস্কারে উদ্যোগ নেয়নি। যে কারণে গর্তগুলো ক্রমান্বয়ে বড় আর ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, তিন পার্বত্য জেলায় এরকম দৃষ্টি নন্দন সেতু আরেকটি নেই বলে জানান স্থানীয় স্কুল শিক্ষক নিখিল চাকমা। তিনি বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটি নির্মাণের ফলে রাঙ্গামাটি জেলা সদরের সাথে কাপ্তাই উপজেলাসহ অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সহজ হয়। সেতুটি নির্মাণের পূর্বে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ ঘুরে মানুষ যাতায়াত করতো। কিন্তু একটি সেতু নির্মাণের ফলে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মানুষের অনেক সুবিধা হয়েছে। আর এই সেতুটি একটি পর্যটন এলাকা হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছে। প্রতিদিন বিকালে শতশত মানুষ এখানে বেড়াতে আসে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে যেমন সেতুটি অনন্য অবদান রাখছে পাশাপাশি পর্যটনের ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু কাপ্তাই থেকে রাঙ্গামাটি অভিমুখি যাবার সময় সমপ্রতি সেতুর উপর প্রথমে একটি ছোট গর্ত তৈরি হয়। পরে ক্রমান্বয়ে ছোট গর্ত বড় হতে থাকে এবং আরো নতুন নতুন গর্ত সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সেতুটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে বলেও তিনি জানান।

কাপ্তাই-রাঙ্গামাটি নতুন সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী অটোরিক্সা চালক ফজলুল হোসেন বলেন, আসামবস্তি সেতুর উপর গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় এই সড়কে এখন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুন কুমার চাকমা বলেন, সেতুটি সংস্কার করার দায়িত্ব রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের। বিষয়টি তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলা পরিষদ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগকে অবহিত করবেন বলেও জানান। তাড়াতাড়ি যাতে সেতুটি সংস্কার করা যায় সে বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করবেন বলে এই প্রতিনিধিকে জানান।

এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের সদস্য থোয়াইচিং মং মারমা জানান, সেতুর উপর সৃষ্ট গর্ত জেলা পরিষদের নজরে এসেছে। বিষয়টি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হবে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।