জামায়াত-শিবির পুলিশের ওপর হামলা চালাচ্ছে

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:১৯

নব্য জেএমবির নামে জামায়াত-শিবিরের লোকজনই পুলিশকে টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম। রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় পুলিশের ওপর চালানো হামলা প্রসঙ্গে সাংবাদিককের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক মাসে চার-পাঁচটি ঘটনার বাইরে আগের সব সন্ত্রাসী ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অধিকাংশ মামলার চার্জশিট হয়েছে। এছাড়া কিছু মামলার বিচার হয়েছে, কিছু বিচারাধীন রয়েছে। সে কারণে পুলিশের প্রতি তাদের প্রচণ্ড একটা ক্ষোভ আছে।’ তিনি জানান, নব্য  জেএমবির শীর্ষ নেতাদের অধিকাংশই গ্রেফতার হয়েছে, কেউ কেউ পুলিশি অভিযানে নিহত হয়েছে ও আত্মাহুতি দিতে বাধ্য হয়েছে।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, ‘জেএমবি ছিল মূলত জামায়াত-শিবিরের সাবেক নেতাকর্মীদের তৈরি একটি জঙ্গিবাদী সংগঠন। আমরা দেখেছি, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী বা সাবেক নেতাকর্মী জেএমবিতে জড়িত হয়েছে। ২০১৬ সালের পরেও যারা জড়িত হচ্ছে তাদের মধ্যে অনলাইন অ্যাকটিভিস্টই বেশি। কারণ, হলি আর্টিজানের পরে তাদের যে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল, তাতে সাবেক শিবির ছাড়াও আরো কিছু তরুণ যোগ দেয়, যারা মিসগাইডেট হয়েছিল। অনলাইন প্রচারণার ল্যাংগুয়েজ এবং ছাত্রশিবিরের ব্যবহূত কিছু ট্রেডমার্ক ল্যাংগুয়েজ এখন পর্যন্ত ব্যবহূত হচ্ছে। বিভিন্ন সময় যারা ধরা পড়ছে তারাও দেখা  গেছে শিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিল। এমনও কেউ কেউ আছে, ছাত্রশিবিরের নেতা হিসেবে ১৫-১৬টি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সে এই জঙ্গি গোষ্ঠীতে নাম লিখিয়ে জঙ্গি কার্যক্রম চালাচ্ছে।’ এরকম কিছু লোককে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘কিছুদিন আগে রাজধানীর দু’টি পুলিশ বক্সের সামনে বোমা রাখা হয়েছিল, সেগুলো বিস্ফোরিত হয়নি। সর্বশেষ গত পরশু (৩১ আগস্ট) সায়েন্সল্যাবের ঘটনা থেকে এখন পর্যন্ত যতটুকু তথ্যউপাত্ত পাওয়া গেছে তাতে পুলিশই মূলত এর টার্গেট ছিল।’ পুলিশকে টার্গেট করার  পেছনে নানা কারণ আছে উল্লেখ করে পুলিশের এই কর্মককর্তা বলেন, ‘২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে একধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা দেখেছেন। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে এবং বিচারের দাবিতে যখন গণজাগরণ মঞ্চের উত্থান হয়। তখন থেকেই জঙ্গিবাদের বিস্তার হতে শুরু হয়, ব্লগার হত্যাকাণ্ড শুরু হয়, এবং ব্লগার অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মানেই নাস্তিক, এরকম আখ্যা দিয়ে তাদের দেশবাসীর বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা হয়েছে।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচার যখন শুরু হয়, তখন তারা যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, সেটার প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা দেখেছে পুলিশকে। তারা নৈরাজ্য যাতে তৈরি হতে না পারে, তা প্রতিহত করেছে পুলিশ। তারা মনে করে, তারা যখনই সংগঠিত হতে চেয়েছে, পুলিশের কারণে পারেনি। যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, পুলিশ তাদের গ্রেফতার করবে এটাই স্বাভাবিক। এই কাজটাকে তারা মেনে নিতে পারেনি। এ কারণে পুলিশের প্রতি তাদের সাংগঠনিক যে  ক্ষোভ ছিল, সেটাকে তারা কাজে লাগাচ্ছে।’