অ্যাপ ছাড়া চুক্তিতে মোটরসাইকেল ভাড়া করে যাতায়াত করলে জীবনের ওপর ঝুঁকি আসতে পারে। ছিনতাইকারী যাত্রী সেজে মোটরসাইকেলে উঠে চালককে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিতে পারে। এ জন্য অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল চালকদের সচেতন হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।
এদিকে, মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারের ওপর পাঠাও চালক মিলনকে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নূরউদ্দিন ওরফে সুমন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। সুমন কীভাবে এ হত্যার ঘটনা ঘটাল—সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে গিয়ে গতকাল ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম কমিশনার এসব কথা বলেন।
গত ২৬ আগস্ট রাত সাড়ে ৩টার দিকে মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারের মাঝামাঝি স্থানে পাঠাও চালক মিলনকে হত্যা করে তার মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায় ছিনতাইকারী। এ ঘটনায় গতকাল সকালে ডিবি পুলিশ শাহজাহানপুর থানা এলাকা থেকে নূরউদ্দিন ওরফে সুমনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতের কাছ থেকে নিহত মিলনের ব্যবহূত একটি স্যামসাং জে-৫ মোবাইল সেট, দুইটি হেলমেট ও ডায়াং ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
আবদুল বাতেন বলেন, গত ২৬ আগস্ট রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পাঠাও চালক মিলন এক যাত্রীকে মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় নামিয়ে দেন। যাত্রী নামানো শেষে মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারে উঠতে আবুল হোটেলের ঢালে নূরউদ্দিন ভিকটিম মিলনকে সিগন্যাল দিয়ে থামিয়ে গুলিস্তান যাবে বলে ৫০ টাকায় ভাড়া ঠিক করেন। ফ্লাইওভারের সবচেয়ে ওপরের সড়কে পৌঁছালে মোটরসাইকেল থামাতে বলে নূরউদ্দিন। মোটরসাইকেল থামানোর পর তিনি মিলনকে বলেন তিনিই মোটর সাইকেলটি চালাবে। এতে মিলন রাজি না হয়ে বলেন, ‘আপনাকে আমি কেন মোটরসাইকেল চালাতে দিব?’ এভাবে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। সুযোগ বুঝে নূরউদ্দিন এন্টি কাটার দিয়ে মিলনের গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে ফ্লাইওভারে রেখে মোটরসাইকেল ও মোবাইল নিয়ে চলে যায়। এ সংক্রান্তে শাহজাহানপুর থানায় মামলা হলে তদন্তে নামে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রবিবার রাতে নূরউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়।
