বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার হাতে এখন মোবাইল সিম কার্ড। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও বিটিআরসি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে মোবাইল ফোনের সিম বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে বিটিআরসি। পাশাপাশি রাতে ফোরজি ও থ্রিজি সেবাও বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে অপারেটরদের। একই সঙ্গে রোহিঙ্গারা যাতে মোবাইল ফোনের সুবিধা না পায় তা সাত দিনের মধ্যে নিশ্চিত করতে সব মোবাইল অপারেটরকে ‘জরুরি’ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিটিআরসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে উখিয়া ও টেকনাফে ৯ লাখের মতো সিম সচল রয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় অধিবাসীরা কত সংখ্যক ব্যবহার করছেন আর রোহিঙ্গারাও কী পরিমাণ ব্যবহার করছেন সেটা নিশ্চিত হওয়া দরকার। অপারেটরদের বলা হয়েছে, ৭ দিনের মধ্যে প্রতিটি এনআইডি’র সঙ্গে সচল নম্বর মিলিয়ে রোহিঙ্গাদের হাতে থাকা সিমগুলো বন্ধ করতে হবে। এই কারণে নতুন সিম বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। রাতে ঐ এলাকা থেকে নানা ধরনের অপতত্পরতার তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে রাতে ফোরজি ও থ্রিজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া মিয়ানমার সীমান্তে যে টাওয়ারগুলো রয়েছে, সেগুলোর ফ্রিকোয়েন্সি কমাতে বলা হয়েছে। যাতে শুধু দেশের মধ্যেই নেটওয়ার্ক থাকে। মিয়ানমারের ভেতরে যেন আমাদের নেটওয়ার্ক কোনোভাবেই না পৌঁছায়।’
সূত্র জানিয়েছে, গত ঈদুল আজহার পর বিটিআরসির তিনটি টিম রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে। সেখানে তারা বিপুল সংখ্যক সক্রিয় সিম থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই লাখ সক্রিয় সিম থাকার বিষয়টি চিঠি দিয়ে সরকারকে জানায়। গত শনিবার ইত্তেফাকে এ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ হয়। গতকাল অপারেটরদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ডেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিটিআরসির এই নির্দেশনার পর মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন- এমটব মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফরহাদ বলেন, ‘মোবাইল অপারেটররা সবসময়ই বিটিআরসির নির্দেশনা মেনে চলে। এ ব্যাপারে তারা নিজেদের আয়ত্তের মধ্যে সম্ভব যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। এখানে আরো বলা দরকার যে এনআইডি ডাটাবেজের সঙ্গে বায়োমেট্রিক নিশ্চিতকরণের পরেই কেবল মোবাইল সিম সক্রিয় করা যায়।’
বিটিআরসি থেকে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গুরুত্ব বিবেচনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসুরক্ষার স্বার্থে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যাতে মোবাইল সুবিধা না পায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আপনাদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকারী কমিটি এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে কমিশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যাপক হারে সিম ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য পেয়েছে। এমতাবস্থায়, আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো প্রকার সিম বিক্রি, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কর্তৃক সিম ব্যবহার বন্ধ তথা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মোবাইল সুবিধাদি প্রদান না করা সংক্রান্ত সকল ব্যবস্থা নিতে বলা হল।’
বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের অনিবন্ধিত সিম বিক্রি বেআইনি। আর মোবাইল সিম নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন হয় জাতীয় পরিচয়পত্র। নির্বাচন কমিশনে সংরক্ষিত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে আঙ্গুলের ছাপ মেলানোর পর ‘বায়োমেট্রিক’ নিবন্ধনের কাজ শেষ হয়। এ নিয়ম অনুসরণ করা হলে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের হাতে বৈধভাবে মোবাইল সিমকার্ড থাকার কথা নয়। কিন্তু কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকা সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গার একটি বড়ো অংশের হাতে মোবাইল ফোন রয়েছে। এসব অবৈধ মোবাইল সিম চাঁদাবাজি, মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।
