নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী পোড়াগাঁও ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত চেল্লাখালী নদীর তীরবর্তী বাতকুচি গ্রামে নদী থেকে বালু উত্তোলনের নামে খোঁড়া হচ্ছে সরকারি খাস সমতল জমি-পাহাড় ও বনভূমি। তোলা হচ্ছে মোটা, চিকন ও সাদাবালি আর নুড়ির পাথরের মতো মূল্যবান খনিজ সম্পদ। এই খনিজ সম্পদ উত্তোলন করতে গিয়ে উচ্ছেদ করা হচ্ছে নিরীহ-অসহায় পরিবারদের। এমন স্বর্গরাজ্যের ফলে ধ্বংস হচ্ছে সামাজিক বন, প্রকৃতি ও পরিবেশ। বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।
বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজিমনে গিয়ে দেখা যায়, পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বারমারী বাজারের পশ্চিম পাশে পলাশিকুড়া ও বাতকুচি এই দুই গ্রামে। ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি চেল্লাখালী নদীর বুরুঙ্গা এলাকায় অপরিকল্পিত ও মাত্রাতিরিক্ত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নদী এখন বালুশূন্য প্রায়। বিএনপি আমলে হাইকোর্টের একটি রিট পিটিশনের দোহাই দিয়ে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ মিয়ার লোকজন প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন ও প্রতিগাড়িতে হাজার বারোশ’ টাকা করে রয়েলিটি আদায় করছে। নদীতে বালু না থাকলেও নদী তীরবর্তী বাতকুচি গ্রামের বিভিন্ন অংশের পাহাড়ের গা ঘেঁষে থাকা খাস জমি ও বন বিভাগের ভূমি খুঁড়ে ধ্বংস করছে। ৫০-৬০ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে ১০/১১টি শ্যালোচালিত ড্রেজার দিয়ে ভূগর্ভে থাকা খনিজ সম্পদ মোটা-চিকন, সাদা বালু আর ছোট ছোট নুড়ি পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে প্রকাশ্যে। সামাজিক বনায়ন এবং ওই এলাকায় বসবাসরত অসহায় পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে হুমকি-ধামকি দিয়ে। ফলে ভাঙনের হুমকিতে পড়ছে আশেপাশের বসতবাড়ি। জমির পজিশন না ছাড়লে দেওয়া হয় মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি। আর উত্তোলিত বালুর বর্জ্যে ভরাট হচ্ছে নদীর নাব্যতা। নদীর এ পয়েন্টে অন্তত ১০-১২টি করে শ্যালো চালিত ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে এলাকাবাসী চরম বিপাকে রয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে দেখানো হয় ভয়-ভীতি। ফলে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। ব্রিজ রক্ষায় কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী প্যালাসাইডিং করে নদী তীরে বাঁধ তৈরি করে দেন। বাতকুচি গ্রামের বিধবা রহিমা বেগম (৬০) বুকফাটা আর্তনাদ করে বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বালু ব্যবসায়ীরা তাকে বসতভিটা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে নির্জন এক পাহাড়ে পাঠিয়েছে। অনেক জায়গায় ঘুরেও ন্যায়বিচার পাননি। উল্টো তাকে বস্তায় ভরে নদীতে পুঁতে রাখার হুমকি দেওয়া হয়। একই গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে জানান, তার পিতার কাছ থেকেও জোরপূর্বক নদীর তীরবর্তী সামাজিক বনায়নে জমি জোর করে বালু উত্তোলনের জন্য লিজ নিয়েছে বালু ব্যবসায়ী আব্দুছ ছালাম। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা আরো জানান, আমরা মুখ খুলতে পারি না। মুখ খুললেই চেয়ারম্যানের লোকজন মামলাসহ নানা ধরনের হুমকি দেয়। তার লোকেদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। এটা আজাদ চেয়ারম্যানের রাজত্ব। যা ইচ্ছা তাই করে কিছু বলতে মানা।
ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ মিয়া জানান, কে কোথায় বালু তুলছে আমি কিছু জানি না। বালু উত্তোলনের সঙ্গে আমি জড়িত নই, আমি বালুর ব্যবসা করি না। শুধু রয়েলিটি আদায় করি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমানকে অবহিত করা হলে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
