অনূর্ধ্ব ১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
স্পোর্টস রিপোর্টার
অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ ২০১৭ এর চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ ভারতের কল্যাণীতে সদ্যসমাপ্ত সাফে গিয়েছিল শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যেই। কিন্তু শেষ দুই ম্যাচে নেপাল আর ভারতের কাছে চার গোল হজম করলে সে লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয় রাকিবুল ইসলামের দল। বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল থমাস স্মলি এই ব্যর্থতার কারণ হিসেবে দেখছেন অবসাদ আর প্রস্তুতির অভাবকেই।
শিরোপাধারী বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৫ সাফ ২০১৯ এর শুরুটা শ্রীলঙ্কা আর ভুটানের বিপক্ষে বড়ো জয় দিয়েই শুরু করেছিল। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচে নেপালের কাছে ৪-১ গোলে হারলে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বড়ো ধাক্কা খায়। স্মলির মতে সেই হারটাই মূলত টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়েছে দলকে।
বাফুফে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর বলেন, ‘নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যেখানে জিতলে ফাইনালে চলে যেতাম আমরা। তারা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিল। ভালো খেলোয়াড়ও ছিল তাদের। তবে তাদেরকে আমাদের চেয়ে ভাল দল বলছি না আমি। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটা দিনে ভাল পারফর্মেন্স দিয়েছে তারা। আর ভারতের বিপক্ষে জেতাটা কঠিনই ছিল। তারা বেশ ভালো দল। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত হয়ে এসেছিল তারাই।’
শেষ দুই ম্যাচে বড়ো হারের কারণ হিসেবে অবসাদকেই দেখছেন স্মলি, ‘আমাদের দলটা অবসন্ন ছিল। আমাদের দলের মানসিকতাও খুব বাজে ছিল। এ কারণেই তারা আমাদের ওপর আধিপত্য দেখাতে পেরেছে।’
পাশাপাশি কম সময় প্রস্তুতির কথাটাও স্বীকার করলেন তিনি, ‘আমাদের প্রস্তুতির সময়টা খুব কম ছিল। তার ওপর এবার নেপালের বিপক্ষে আমরা ঠিকঠাক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পারিনি। তৃতীয় ম্যাচে আমাদের পারফর্মেন্স মোটেও আশানুরূপ ছিল না। সবকিছু সেদিন ভজকট পাকিয়ে গিয়েছিল।’
গোলরক্ষণ আর রক্ষণের দুর্বলতারও দায় আছে এই ব্যর্থতায়। ইংলিশ এই টেকনিক্যাল ডিরেক্টর বলেন, ‘শেষদিকে রক্ষণ আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ভারত ম্যাচেই দেখুন। দুটো ওয়াইড ফ্রি কিক আর একটা কর্নার থেকে গোল হজম করলাম। গোলরক্ষক ঠিকঠাক ধরতেই পারল না!’
তবে ভুলগুলো শুধরে ছেলেদের নিয়ে শীঘ্রই পরবর্তী সাফের জন্য প্রস্তুতি শুরু করবেন বলে জানান তিনি। স্মলির ভাষায়, ‘নিজেদের ভুলগুলো জেনে খুব তাড়াতাড়িই সামনের দিকে তাকাতে হবে আমাদের, যেটা আমরা এখন করছিও! অক্টোবর থেকেই আমরা আগামী সাফের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করব। নতুন খেলোয়াড় নেবো আমরা। পাইওনিয়ার লিগ এজন্য খুব কাজে দেবে।’
