গ্রিসে চাপের মুখে আশ্রয়প্রার্থীরা

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৫৭

 ‘শরণার্থীর ঢল’ নামিয়া আসিবার যুক্তি তুলিয়া ধরিয়া ইহার বিরুদ্ধে নতুন এক জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়াছে গ্রিস সরকার। এই ঘোষণার ফলে ইতিমধ্যে গ্রিস ভূখণ্ডে পৌঁছিয়া যাওয়া হাজার হাজার আশ্রয়প্রার্থীর পরিণতি সম্পর্কে মানবাধিকার সংস্থাগুলির মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়াছে। বিশেষ করিয়া শরণার্থী ক্যাম্পগুলিতে পড়িয়া থাকা শত শত অভিভাবকহীন শিশুরা কোথায় আশ্রয় পাইবে তাহা লইয়া খোদ জাতিসংঘও ঘোর অনিশ্চয়তা ব্যক্ত করিয়াছে। উল্লেখ্য, বর্তমান পরিস্থিতিকে ২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটের সহিত তুলনা করিয়া তাহা মোকাবিলার কথা বলিতে শুরু করিয়াছে গ্রিস। জাতিসংঘের হিসাব মোতাবেক চলতি বত্সরে শরণার্থী ও অভিবাসী হইতে ইচ্ছুক ইউরোপে প্রবেশকারী ৫৬ হাজারের মধ্যে অর্ধেকের অধিক মানুষ গ্রিস হইয়া ইউরোপে প্রবেশ করিয়াছে।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, গত কয়েক দিনে আজিয়ান সমুদ্রের বুকে অবস্থিত গ্রিসের দ্বীপগুলিতে হঠাত্ করিয়াই শরণার্থীর সংখ্যা অনেকাংশে বাড়িতে শুরু করিয়াছে। এক হিসাবে মতে, আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে মানব পাচারকারীদের মাধ্যমে কমপক্ষে সাড়ে ৬০০ মানুষ দ্বীপগুলিতে আসিয়া হাজির হইয়াছে। ইহাদের মধ্যে প্রায় আড়াই শত জন শিশু রহিয়াছে। মানব পাচারকারীরা আজিয়ান সমুদ্রের অপর পারের দেশ তুরস্ক হইতে এই সমস্ত লোকজনকে জলযানযোগে পাচার করিয়া আনিয়া গ্রিস ভূখণ্ডে ছাড়িয়া দিয়াছে। শরণার্থী হইতে ইচ্ছুক এইসব লোকজনের মধ্যে আফগানিস্তান ও সিরিয়ার নাগরিকের সংখ্যাই সর্বাধিক। উল্লেখ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) সহিত বোঝাপড়া মোতাবেক বর্তমানে তুরস্কে সাড়ে ৩ মিলিয়নের অধিক বাস্তুচ্যুত সিরীয় নাগরিক অবস্থান করিতেছে। সিরিয়া পরিস্থিতির নতুন করিয়া অবনতি হইতে থাকিবার কারণে সামনের দিনগুলিতে এই সংখ্যা আরো বাড়িয়া যাইতে পারে বলিয়া আশঙ্কা করিতেছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ। এমতাবস্থাতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরিয়া শরণার্থীবিষয়ক নীতিমালা প্রয়োগের উপরে বেশ গুরুত্বারোপ করিতেছে দেশটি।

তুরস্ক ও গ্রিস ধরা যাক যে নিজ-নিজ জাতীয় স্বার্থ মোতাবেক কাজ করিতেছে। কিন্তু এইক্ষেত্রে প্রশ্ন আসিতেছে মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের কারণে নিজ দেশ ত্যাগে বাধ্য হওয়া যে বিপুলসংখ্যক মানুষ মানবতার ধ্বজাধারী ইউরোপের দুয়ারে মাথা ঠুকিতেছে তাহাদের কী হইবে? স্মর্তব্য, ২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটের কালে ইউরোপের দেশগুলি যেইসব অঙ্গীকার করিয়াছিল সেইগুলির বেশিরভাগই শেষাবধি পূরণ হয় নাই। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সেই সময় ব্রিটেন ৩ হাজার শরণার্থী শিশুকে গ্রহণ করিবার কথা বলিলেও অদ্যাবধি মাত্র ২২০ জন শিশুকে গ্রহণ করিয়াছে। অভিবাসী-শরণার্থীবিরোধী রাজনীতির রমরমার কারণে ইউরোপের যেইসমস্ত দেশে উদার গণতান্ত্রিক দলগুলি ক্ষমতায় রহিয়াছে তাহারাও এই বিষয়ে গুরুত্ব আরোপে ব্যর্থ হইতেছে। গ্রিসে হুবহু একই পরিস্থিতি তৈরি হইয়াছে। মাস দুয়েক পূর্বে প্রগতিশীল সরকারকে হটাইয়া মধ্য-ডানপন্থিরা ক্ষমতায় আসিবার পর হইতেই শরণার্থী-অভিবাসীবিরোধী রাজনীতি নতুন করিয়া মাথাচাড়া দিয়া উঠিয়াছে। নতুন করিয়া জরুরি অবস্থা গ্রহণের ঘোষণা সম্ভবত তাহারই বহিঃপ্রকাশ।