বরিশালে ইন্টারনেট সংযোগ আছে সেবা নেই

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:০৫

বরিশালে বিটিসিএলের ইন্টারনেট গ্রাহকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। প্রায়ই সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা, টেকনিশিয়ান না থাকা ও সার্ভিস ব্যবস্থার চরম উদাসীনতায় গ্রাহকরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বাধ্য হচ্ছেন। বেসরকারি মোবাইল কোম্পানি এবং বেসরকারি ইন্টারনেট (ব্রডব্যান্ড) ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনোভাবে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না বিটিসিএল। কেন্দ্রীয়ভাবে মাসিক লাইনরেন্ট বাতিল করে কলরেট ও ইন্টারনেট রেট কমালেও তার কোনো প্রভাব নেই বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠী ও ভোলায়। বিগত কয়েক বছরের উদাসীনতায় এ অঞ্চলের এক্সচেঞ্জগুলোতে সংযোগ রয়েছে মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ। 

টেলিফোনের মাধ্যমে এডিএসএল ইন্টারনেট সংযোগ ১০ ভাগের এক ভাগও নেই। গত কয়েক বছরে বরিশাল বিভাগীয় এ অফিসের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ। বিভাগীয় অফিসে ২৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিযুক্ত থাকলেও দক্ষ টেকনিশিয়ান নেই। বরিশালের ইন্টারনেট সেবার জন্য কাগজে-কলমে চার-পাঁচ জন থাকলেও বাস্তবে এক জন স্টাফ রয়েছেন মাস্টাররোল ভিত্তিতে। মো. হানিফ নামে ঐ এক জন স্টাফ দিয়েই চলছে বরিশালের ৪৫০ জন গ্রাহকের ইন্টারনেট সেবা। একই অবস্থা অপর জেলাগুলোতে। পিরোজপুরের ৭১ জন ইন্টারনেট গ্রাহক, ঝালকাঠীর ১১৮ জন ও ভোলার ১২৫ জন গ্রাহকের বেলায়ও দক্ষ টেকনিশিয়ান না থাকায় সেবা বঞ্চিত। বিটিসিএলের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শামীম ফকির জানান, দক্ষ টেকনিশিয়ান না থাকায় গ্রাহক সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার দাবি হানিফসহ আরো চার-পাঁচ জন লাইনম্যান ইন্টারনেট সেবা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। কলরেট ও ইন্টারনেটের দাম কমায় সংযোগ নিতে অনেকেই নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিটিসিএলের সেবা আধুনিকায়ন হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বেসরকারি প্রায় ৩০টি কোম্পানি ব্রডব্যান্ড সেবা দিচ্ছে। বিটিসিএলের দামের চেয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের নেট সংযোগ চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি হলেও গ্রাহক তা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এখানকার ইউরোটেল বিডি বরিশাল বেসরকারি কোম্পানিটি ঝালকাঠী ও পটুয়াখালীতে ইন্টারনেট সার্ভিস দিচ্ছে। এ কোম্পানির অধীনে ৫ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন প্রায় ২৫০ জন। এরমধ্যে ৬০ জন রয়েছেন দক্ষ টেকনিশিয়ান ও ২৫ জন রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার। কোম্পানিটির চেয়ারম্যান এস এম জাকির হোসেন বলেন, বিটিসিএলের সার্ভিস, কলসেন্টার, সাপোর্ট এবং ম্যানেজমেন্ট আরো শক্তিশালী করা দরকার। বিটিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, ২০০৬ সাল থেকে ২০১৬ এ ১০ বছরে কোনো প্রকার কর্মকর্তা নিয়োগ প্রদান করা হয়নি। ২০১৬ সালের পর সারাদেশে মাত্র ৫২ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলেও দীর্ঘদিনের শূন্যতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। 

নগরীর বটতলার অয়োময় মঞ্চিলের ডা. আল-আমিন প্রায় দুই যুগের টেলিফোন বিড়ম্বনা তুলে ধরে নানা অভিযোগ করেন। রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংকের ম্যানেজার জানান, লাইনে সমস্যা হলে বার বার ফোন দিয়েও কারোর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না।