মোটরসাইকেলসহ দুজন চোরাকারবারীকে গ্রেফতারের একদিন পর রাতের অন্ধকারে সেই মোটরসাইকেল আসামির পরিবারকে টাকার বিনিময়ে হস্তান্তর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাতে রাজশাহীর বাঘা থানায় এ ঘটনা ঘটিয়েছেন থানার আলোচিত দারগা সইবুর রহমান। এর আগে দুপুরে বিএনপির সভাস্থলের গেটে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি তার হাত থেকে ছুটে পালানোর ঘটনা নিয়েও নানা বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাঘা উপজেলার আলাইপুর সীমান্ত থেকে ১০ পিচ ইয়াবা এবং একটি ১২৫ সিসি হিরোহোন্ডা মোটরসাইকেলসহ ওই গ্রামের খাকছারের ছেলে মিজান (৪০) এবং পার্শ্ববর্তী চারঘাট উপজেলার জোত কার্তিক গ্রামের সাদেক আলীর ছেলে বাদশাকে (৩৫) গ্রেফতার করে বাঘা থানার এসআই সইবুর রহমান। এ নিয়ে রাতে থানায় মামলা হয়। আসামিকে পরদিন সকালে চালানও দেয়া হয়। কিন্তু মামলার কপিতে রহস্যজনক কারণে আলামত হিসাবে মোটরসাইকেলটি বাদ রাখা হয়। কারণ আগে থেকে টাকার বিনিময়ে মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দেয়ার শর্ত হয় উক্ত আসামি এবং দারগার মধ্যে। সেই আলোকে ঘটনার পরদিন রাতে মাত্র ১৫ হাজার টাকায় ওই মোটরসাইকেলটি আসামি মিজানের পরিবারকে হস্তান্তর করেন দারগা সইবুর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পত্রিকায় সংবাদ- না ছাপার অনুরোধ জানিয়ে মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন দারগা সইবুর বলেন, দেড় মাস আগে বিদায় নেয়া ওসি মহাসিন স্যারের সঙ্গে ওই আসামির একটা ঘটনা ছিলো। এ কারণে খুব অল্প টাকায় মোটরসাইকেলটি দিয়ে দেয়া হয়েছে।
এর আগে দুপুরে বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেনের বাড়ির বিশাল আঙ্গিনায় দলীয় বর্ধিত সভার শেষ পর্যায় সভা স্থলের গেট থেকে দারগা সইবুরের হাত থেকে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আসামির নাম শামিম সরকার। তিনি উপজেলার বামনডাঙ্গা গ্রামের বাচ্চু সরকারের ছেলে। এ নিয়ে বিতর্কের ঝড় বইছে বাঘা সদরে।
সইবুর জানান, তার কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়া হয়নি। সে হাত থেকে ছুটে পালিয়ে যায়। তবে রাতে টাকা নিয়ে থানা থেকে মোটরসাইকেল বের করে দেয়ার বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার হাত থেকে আসামি শামিম সরকার ছুটে গিয়ে সভাস্থলের ভেতর ঢুকে পড়ে। এ অবস্থায় বিএনপি নেতাদের অনুরোধে আমি তাকে ছেড়ে আসতে বাধ্য হই।
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, থানা থেকে অর্থের বিনিময়ে চোরাকারবারীর মোটরসাইকেল বের করে দেয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। আসামি পালানোর বিষয়েও তার কাছে কিছু গোপন তথ্য এসেছে। তিনি বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখবেন বলে জানান।
ইত্তেফাক/আরকেজি
