মনোহরদীতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে দুলাল মিয়া (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে আটক করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করলে আসামি দুলাল মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেল-হাজতে প্রেরণ করে।
মনোহরদী থানা সূত্রে জানা যায় ধর্ষক দুলাল মিয়া মনোহরদী উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের বীর মাইজদিয়া গ্রামের মৃত আ. জাব্বারের পুত্র। ধর্ষক দুলাল মিয়া দুই সন্তানের জনক। তার ছেলে প্রবাসী ও মেয়ে বিবাহিত স্ত্রী একটি প্রাইভেট হাসপাতালে আয়ার চাকরি করে, ফলে দিনের বেলায় দুলাল মিয়া তার বাড়িতে একাই থাকেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল তারিখে দুপুরে প্রতিবেশী কিশোরী তার বাড়ির উঠান দিয়ে অন্য বাড়িতে যাচ্ছিল। এ সময় দুলাল মিয়া কিশোরী মেয়েটিকে ডেকে পানি আনতে বলে। মেয়েটি কল থেকে পানি নিয়ে দুলালের ঘরে প্রবেশ করলে দুলাল ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বিষয়টি যাতে কারও কাছে না বলে সে জন্য ধর্ষক দুলাল কিশোরীকে নানা ধরনের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। ধর্ষিতা মেয়েটি লোক লজ্জার ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখে। কয়েক মাস পর কিশোরীর দৈহিক পরিবর্তন শুরু হলে ধর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ হয়। এ বিষয়ে ধর্ষিতার পিতা বাদী হয়ে প্রতিবেশী ধর্ষক দুলাল মিয়াকে (৬০) আসামি করে মঙ্গলবার মনোহরদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(৯) ১ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: বিস্ফোরক মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনোহরদী থানার উপ-পরিদর্শক মো. আমিরুল ইসলাম জানান, মামলার আসামি ধর্ষক দুলাল মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন। পরে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। আদালত ভিকটিমকে তার পিতার হেফাজতে প্রদান করেন। বুধবার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য থানা পুলিশ সহ ভিকটিমকে তার বাবার সঙ্গে কিশোরগঞ্জ পাঠানো হয়েছে। ডাক্তারি রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি

