বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উেক্ষপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিসিএসসিএল

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:০৪

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সভ্যতার মহাসড়ক হচ্ছে ডিজিটাল সংযুক্তি। তিনি প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ যথা সম্ভব ত্রুটিমুক্ত, প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং চাহিদা মেটানোর মতো অবস্থানে কাজে লাগানোর উপযোগী করতে বিশেষায়িত বিশেষজ্ঞ পরামর্শের ভিত্তিতে পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ কমিউনিকেশন্স স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডকে (বিসিএসসিএল) নির্দেশ দিয়েছেন। মন্ত্রী গতকাল ঢাকায় আইইবি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এর বিষয়ে অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশ  দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বে বাংলাদেশের অবস্থান এমন একটি জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রকল্পের জন্য মেধা খাটানোর দরকার হয়, অর্থের জন্য চিন্ত করতে হয় না।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী  বলেন, প্রতিরক্ষা, আবহাওয়া, কৃষি এবং স্বাস্থ্যসহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ তে কী কী থাকা উচিত এবং আগামী ১৫ বছর পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর লাইফ টাইম শেষ হওয়ার বিষয় মাথায় রেখে স্বল্প মেয়াদি,  মধ্য  মেয়াদি এবং দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-৩ ও ৪ নিয়েও এখন থেকেই ভাবতে হবে। বঙ্গবন্ধু-১ উেক্ষপণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামনে এগোতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্যাটেলাইট পরিচালনায় আমাদের ছেলেমেয়েদের দক্ষতা অর্জনের  যে ক্ষমতা, সেটাই আমাদের শক্তি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ দিয়ে আমরা কী অর্জন করতে চাই আজকের মতবিনিময় থেকে অর্জিত ফলাফল ও পরামর্শ পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক হবে বলে  মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় স্পেস ইউনিভার্সিটি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এ বিষয়ক মানব সম্পদের অভাব পূরণের ব্যবস্থা নিয়েছেন।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বেতবুনিয়ায় ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক  টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নে বাংলাদেশের সদস্য পদ অর্জনকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানের বিস্ময়কর দূরদর্শিতা বলে  উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু মেধাভিত্তিক জাতি বিনির্মাণে প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করেন। দেশের খাদ্যের জোগান দেওয়াটাও তখন সহজ সাধ্য ছিল না। সে দেশে উপগ্রহের সাথে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা  কী পরিমাণ দূরদর্শিতার বিষয় তা ভাবতে গেলেও অবাক লাগে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিপ্লবের যে সূচনা করে গেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় তার কন্যার হাতে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ বিশ্বে ডিজিটাল বিপ্লবের পথপ্রদর্শক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে মহাকাশে স্যাটেলাইট উেক্ষপণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন বলে উল্লেখ করেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের কারণে সেই কর্মসূচিটি আর বাস্তবায়িত হয়নি কিন্তু ২০০৯ সালে তিনি ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশকে ৫৭তম স্যাটেলাইট উেক্ষপণকারী গর্বিত দেশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। অগ্রগতির প্রতিটি সূচকে আজ বাংলাদেশ বিশ্বেও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

মন্ত্রী বলেন, মহাকাশ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঘরে ডিজিটাল সংযোগ পৌঁছে  দেওয়ার জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে তার অর্পিত দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে হবে।

বিসিএসসিএল চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।