ভ্রমণ ও পর্যটন প্রতিযোগিতায় পাঁচ ধাপ উন্নতি বাংলাদেশের

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:১৫

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সূচকে ১৪০ দেশের মধ্যে অবস্থান ১২০তম

আলাউদ্দিন চৌধুরী

ভ্রমণ ও পর্যটন প্রতিযোগিতার সূচকে পাঁচ ধাপ উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। ওয়ার্ল্ভ্র ইকোনমিক ফোরাম প্রকাশিত ‘দ্য ট্রাভেল এন্ড টুরিজম কমপিটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৯’ গতকাল প্রকাশ করা হয়েছে। ১৪০টি দেশের তথ্য নিয়ে এবারের সূচক প্রকাশ করা হয়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম। প্রতি দুই বছর পর পর এই সূচক প্রকাশ করে ওয়ার্ল্ভ্র ইকনমিক ফোরাম। এর আগে ২০১৭ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৩৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৫তম। পর্যটক আকর্ষণে একটি দেশ কতটা নিরাপদ, অবকাঠামো সুবিধা কেমন, বিমানবন্দর কতটা উন্নত, আবাসন ব্যবস্থার মান কেমন, বন্দর সুবিধা, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির অবস্থা—এরকম ১৪টি সূচকের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পাঁচ ধাপ উন্নতি হলেও বাংলাদেশ এশিয়ার মধ্যে শুধু পাকিস্তানের ওপরে অবস্থান করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ভারত। এবার ছয় ধাপ এগিয়ে ৩৪তম অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। তবে সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে শ্রিলঙ্কার। ১৩ ধাপ পিছিয়ে দেশটি রয়েছে ৭৭তম অবস্থানে। শ্রিলঙ্কার ব্যবসার পরিবেশের অবনতি হওয়ায় এতটা পিছিয়েছে। নেপাল এক ধাপ এগিয়ে ১০২তম অবস্থানে রয়েছে। পকিস্তান তিন ধাপ এগিয়ে রয়েছে ১২১তম অবস্থানে।

বেশ কিছু উন্নতি হওয়ায় এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পাঁচ ধাপ এগিয়েছে। মূলত ব্যবসায় ও পর্যটনে নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার সূচকে ১২৩ থেকে ১০৫তম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। তাছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির প্রস্তুতির সূচকে ১১৬ থেকে ১১১তম অবস্থানে, ভ্রমণ ও পর্যটনে অগ্রাধিকার সূচকে ১২৭ থেকে ১২১তম অবস্থানে, মূল্য প্রতিযোগিতায় ৮৯তম থেকে ৮৫তম অবস্থানে, স্থল ও বন্দর অবকাঠামোর সূচকে ৭৪ থেকে ৬০তম অবস্থানে উঠে আসায় সার্বিক সূচকে উন্নতি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী উচ্চ আয়ের দেশ না হয়েও তালিকায় শীর্ষ ৩৫টি দেশের তালিকায় রয়েছে থাইল্যান্ড, ব্রাজিল এবং ভারত। মূলত ভূ-প্রকৃতিগত বৈচিত্র্য, সংস্কৃতি এবং পর্যটনে তুলনামূলক খরচ কম হওয়ায় এ দেশগুলো পর্যটন আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল পর্যটন আকর্ষণে দ্বিতীয় বৃহত্ অঞ্চল। এ অঞ্চলে শীর্ষে রয়েছে জাপান (৪র্থ)। এরপর অস্ট্রেলিয়া (৭ম), চীন (১৩তম), হংকং (১৪তম), কোরিয়া (১৬তম), সিঙ্গাপুর (১৭তম)। এই অঞ্চলে তলানিতে রয়েছে পাকিস্তান (১২১তম)।

এবারের প্রতিবেদেন নতুন করে আটটি দেশের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো—এঙ্গোলা, ব্রুনেই, দারএসসালাম, বারকিনা ফাসো, এসওয়াতিনি, গায়না, হাইতি, লাইবেরিয়া এবং সিশেল। চারটি দেশ অপর্যাপ্ত তথ্যের কারণে এবারের প্রতিবেদনে বাদ পড়েছে। এগুলো হলো—বারবাডোস, ভুটান, গ্যাবন এবং মাদাগাস্কার।

সূচকে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১৪১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৭।

প্রতিবেদন অনুযায়ী সূচকে শীর্ষে অবস্থান করছে স্পেন। এর পর রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অষ্ট্রেলিয়া, ইটালি, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল, চীন। তালিকায় সর্ব নিচে অর্থাত্ ১৪০তম অবস্থানে রয়েছে ইয়েমেন। এরপর ওপরের দিকে রয়েছে শাদ, লাইবেরিয়া, বুরুন্ডি, কঙ্গো, মৌরিতানিয়া, এঙ্গোলা হাইতিসহ আফ্রিকার দেশগুলো।