পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চাই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৫৭

দুর্ঘটনামুক্ত যানবাহন চালনায় উত্সাহিত করতে ৪৮ জন দক্ষ চালক ও ২ জন পরিবহন মালিককে পুরস্কৃত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। পুরস্কার প্রাপ্ত দুইজন মালিক হলেন শ্যামলী পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ এবং আগমনী এক্সপ্রেস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা আজাদ চৌধুরী।

গতকাল শনিবার পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তনে ‘দায়িত্বশীল পরিবহন মালিক পুরস্কার এবং দক্ষ যানবাহন চালক পুরস্কার-২০১৮’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তাদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে স্পন্সর করে জনতা ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।

মূল প্রবন্ধে সংগঠনের প্রধান নির্বাহী সাইদুর রহমান বলেন, পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল। সমস্যা উত্তরণে মূল দায়িত্ব সরকারের। মোটরযান আইন-২০১৮ এর সমালোচনা করে বলা হয়, এটি এখনো পূর্ণাঙ্গ কোন আইন হয়নি। এটি বাস্তবায়ন করার আগে আইনের বেশকিছু জায়গায় সংযোজন ও সংশোধন করা প্রয়োজন। এছাড়া নিরাপদ সড়ক ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক প্রচারণার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এক্সিডেন্ট রিচার্স ইনস্টিটিউট, বুয়েট এর সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পরিবহন খাত বরাবরই অনিয়ন্ত্রিত ছিল, এখন দেশের প্রয়োজনে এখাতে সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি প্রয়োজন। তিনি জানান, ৩৫ লাখ যানবাহনের বিপরীতে ১৯ লাখ লাইসেন্সধারী চালক রয়েছেন। বাকি ১৬ লাখের কোন স্বীকৃতি নেই। এদের প্রশিক্ষিত করে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, দক্ষ চালক বিবেচনায় বেশকিছু প্যারামিটার থাকা প্রয়োজন। মাদক সেবন করে এ ধরনের কাউকেই এ পেশায় নিয়োগ দেওয়া ঠিক নয়। তিনি জানান, চালকদের মর্যাদা বৃদ্ধিতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের লাইসেন্স পাওয়াকে বড় মর্যাদার স্বীকৃতি থাকা প্রয়োজন।

আগমনী এক্সপ্রেস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, চালকদের দক্ষভাবে গড়ে তুলতে দেশে কোন প্রতিষ্ঠান নেই। দেশের ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ছয়মাসের সার্টিফিকেট কোর্স চালু করে চালকদের দক্ষ করে তোলা সম্ভব।

শ্যামলী পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ড্রাইভারদের বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালনার দরকার নেই। এতে কেউ লাভবান হয় না। তবে ইন্সুরেন্সের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ খাতে টাকা ছাড়করণের বিষয়টি দ্রুত হওয়া প্রয়োজন। বিপ্লবী সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আলী রেজা বলেন, চালকদের পুরস্কৃত করার মাধ্যমে নতুন ধারা শুরু হলো। এতে তারা উত্সাহিত হবেন।

পুরস্কৃত ইউসুফ ড্রাইভার বলেন, পুরস্কার পাওয়ার এই স্মৃতি তাদের কাজ আরও সুন্দরভাবে করার ক্ষেত্রে উত্সাহিত করবে। অনুষ্ঠানে পুরস্কার প্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট এবং সংগঠনের ব্যাগ তুলে দেওয়া হয়।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জনতা ইন্সুরেন্সের চেয়ারম্যান বেলাল আহমেদ, লিগ্যাল ইকোনোমিস্ট এম এস সিদ্দিকী প্রমুখ।