শান্তিনগর মোড়ে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পিবিএসের বিশাল বুক সেন্টার। থরে থরে সাজানো বই। সেই বুক সেন্টারের একটি বড়ো অংশজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু বুক গ্যালারি’। যেখানে স্থান পেয়েছে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে অসংখ্য বই।
গতকাল বুধবার বিকালে এই ‘বঙ্গবন্ধু বুক গ্যালারি ও মঞ্চ’র উদ্বোধন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের দুই দশকের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু নির্বাসিত ছিলেন। তাই বঙ্গবন্ধুকে ভালোভাবে জানার প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস জানার মধ্য দিয়েই আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হতে পারবো।’
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘ইতিহাস নিয়ে মানুষের এক ধরনের নির্লিপ্ততা রয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের এই ইতিহাসবিমুখতা বদলাতে পারে বই পড়ার অভ্যাস। তরুণ-কিশোরদের বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের বই পাঠে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগী হতে হবে। পিবিএসের এই উদ্যোগ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
উদ্বোধনী পর্বের সম্মানিত অতিথি কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের রাজনীতি গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন করেছে। কিন্তু সেই গণতন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে হলে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, ভাবনা ও কর্মকে অনুসরণ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নিরন্তর গবেষণা করে যেতে হবে।’
স্বাগত বক্তব্যে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান শায়ক বলেন, ‘এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমাদের ভবিষ্যত গড়বার সময়। আর সেজন্য জানতে হবে দেশের জন্ম ইতিহাস। সেজন্য বঙ্গবন্ধু বুক গ্যালারি স্থাপন করা হয়েছে। ’অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের পরিচালক আবদুল্লাহ আল বাকী। সঞ্চালনা করেন অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম।
আয়োজকরা জানান, শিশু-কিশোরদের জন্য প্রতি শুক্রবার সকাল দশটা থেকে বারটা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই পড়া, কবিতা ও ছড়া আবৃত্তি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা নিয়মিতভাবে আয়োজিত হবে এই বুক গ্যালারি সংলগ্ন মঞ্চে। এটি পরিচালনা করবেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সঙ্গীতা ইমাম। এছাড়া যে কোন লেখক বা প্রকাশক বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা করতে পারবেন এই মঞ্চে।
